অর্থনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে নারীবান্ধব কর্মপরিবেশ জরুরি
প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০২৬, ১৭:৪১ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (সিজিডিএস)-এর উদ্যোগে নীতি থেকে বাস্তবতায় : বাংলাদেশে নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার, ন্যায়বিচার ও কার্যক্রম প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১১ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সভাকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সহযোগিতায় এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা। বৈঠকে সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন সিজিডিএসের পরিচালক অধ্যাপক ড. সানজীদা আখতার।
অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. তৈয়েবুর রহমান এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের জন হপকিনস ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথের সিনিয়র ফ্যাকাল্টি ডা. হালিদা হানুম আখতার। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. আয়েশা বানু।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে নারীদের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও কর্মসংস্থান ও নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে নারীদের অংশগ্রহণ এখনও প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছায়নি। অর্থনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে হলে নারীবান্ধব কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি বলেন, কেবল সংখ্যার বৃদ্ধি নয়, বরং নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং অটোমেশনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম করে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, জাতীয় বাজেটে নারী উন্নয়ন ও নারীর কর্মসংস্থানের জন্য কার্যকর ও লক্ষ্যভিত্তিক বরাদ্দের ঘাটতি রয়েছে। নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, শ্রম এবং প্রবাসী কল্যাণসহ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোকে এ বিষয়ে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। পাশাপাশি 'কেয়ার গিভিং' বা সেবা প্রদান খাতকে একটি মাঝারি দক্ষতার পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এতে দেশে ও বিদেশে নারীদের জন্য সম্মানজনক কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র বা ডে-কেয়ার সুবিধাকে সমাজের অভিজাত গণ্ডি থেকে বের করে আনতে হবে বলেও মন্তব্য করেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর।
তিনি বলেন, তৈরি পোশাক কারখানা ও বস্তিবাসী নিম্ন আয়ের কর্মজীবী নারীদের সন্তানদের নিরাপত্তার জন্য কমিউনিটি-ভিত্তিক ডে-কেয়ার সেন্টার গড়ে তোলা জরুরি। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করতে জাতীয় বাজেটে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় তিনি জেন্ডার সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে পরিবার ও গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন। আগামী দশ বছরে বাংলাদেশের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে নারীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে এবং প্রান্তিক নারীদের কণ্ঠস্বর আরও জোরালোভাবে প্রতিফলিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
গোলটেবিল বৈঠকে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি), মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ পুলিশ, উইমেন উইথ ডিজঅ্যাবিলিটি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (ডব্লিউডিডিএফ), মহিলা পরিষদ, ব্র্যাক, নারী বিষয়ক আইনি সংগঠন এবং বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন অংশীজন অংশগ্রহণ করেন।
আমার বার্তা/এমই
