এস এম সুলতান পদক পেলেন সৈয়দা ইকবাল মানদ বানু

প্রকাশ : ১৯ জুন ২০২৬, ২১:৩৭ | অনলাইন সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক:

কিংবদন্তী চিত্রশিল্পী এসএম সুলতান'র ১০৩তম জন্মবার্ষিকী, এসএম সুলতান পদক পেলেন ডা. জুবাইদার মা সৈয়দা ইকবাল মানদ বানু।

বাংলাদেশের চিত্রশিল্পের কিংবদন্তী শিল্পী এস এম সুলতানের ১০৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে ‘সুলতান শিশু উৎসব ২০২৬’ উদযাপিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুর থেকেই চারুকলা অনুষদের কম্পাউন্ডে প্রায় হাজারখানেক শিশুদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বিকেল ৫টায় চারুকলা অনুষদের ওসমান জামাল মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ মহান এই শিল্পীর জীবন, কর্ম, দর্শন ও ইতিহাস নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

​অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত দেশবরেণ্য চিত্রশিল্পী অধ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চারুকলা অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. আজহারুল ইসলাম শেখ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও সহযোগী অধ্যাপক ইসরাফিল রতন।

​আলোচনায় অতিথিরা বলেন যে, এস এম সুলতান শুধু একজন সাধারণ চিত্রশিল্পী ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন কালজয়ী দার্শনিক। তাঁর ক্যানভাসে বাংলার গ্রামীণ সমাজ এবং মেহনতি কৃষকদের যেভাবে শক্তিশালী ও পেশিবহুল রূপে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, তা মূলত শোষণের বিরুদ্ধে এক অনন্য প্রতিবাদ। মাটির কাছাকাছি থাকা এই মহান শিল্পীর জীবন ইতিহাস এবং তাঁর কাজের দর্শন নতুন প্রজন্মের তরুণ চিত্রশিল্পীদের জন্য সব সময়ই পরম অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। এছাড়া তিনি শিশুদের অত্যন্ত ভালোবাসতেন এবং তাদের ভেতরের সৃজনশীলতাকে বিকশিত করার জন্য আজীবন কাজ করে গেছেন বলেও অতিথিরা উল্লেখ করেন।

​এ বছর সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও শিল্প-সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ঢাকার ‘সুরভী স্কুল’-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান চিত্রশিল্পী সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুকে সম্মানজনক ‘এস এম সুলতান পদক’ প্রদান করা হয়। আলোচনা সভা শেষে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানটিতে সভাপতিত্ব করেন ক্যানভাস'র সাধারণ সস্পাদক শিল্পী শহীদুল ইসলাম শহীদ এবং কিউরেটরের দায়িত্ব পালন করেন চিত্রশিল্পী মো: মাহমুদুল হাসান। পুরো উৎসবটি সফলভাবে সম্পন্ন করার পেছনে মূল ভূমিকা রাখেন উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক চিত্রশিল্পী আব্দুর রাজ্জাক প্রধান।


আমার বার্তা/এমই