ঢাকাকে আর অবহেলায় মরতে দেওয়া যায় না: গুলশান সোসাইটির সভাপতি
প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:১৯ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন

ঢাকাকে আর অবহেলায় মরতে দেওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেছেন গুলশান সোসাইটির সভাপতি ব্যারিস্টার ওমর সাদাত।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) গুলশানের হোটেল লেকশোরে ‘ঢাকা বাঁচানোর ইশতেহার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করেছে নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম বাংলাদেশ ও গুলশান সোসাইটি।
ওমর সাদাত বলেন, ঢাকার নাগরিকদের পক্ষ থেকে আজকের এই উদ্যোগ কোনো অভিযোগের তালিকা নয়, এটি একটি সতর্কবার্তা ও আহ্বান। আমরা চাই রাজনৈতিক দলগুলো ঢাকার সমস্যাগুলোকে স্বীকার করুক, বুঝুক এবং তাদের ইশতেহারে তা প্রতিফলিত করুক। কারণ, ঢাকা যদি বাঁচে, রাষ্ট্র বাঁচবে। আর ঢাকা যদি পরিকল্পনাহীনভাবে ভেঙে পড়ে, তার ভার বহন করতে হবে পুরো দেশকে। এখনই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়– ঢাকাকে আর অবহেলায় মরতে দেওয়া যায় না।
তিনি বলেন, ঢাকা একসময় ছিল নদী, বাগান ও বাণিজ্যের শহর, মুঘল সুবাহ থেকে ঔপনিবেশিক নগর। তারপর একটি জীবন্ত রাজধানী। ইতিহাসের দীর্ঘ পরিক্রমায় এই নগর প্রশাসন, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির কেন্দ্র হিসেবে নিজস্ব এক গৌরব গড়ে তুলেছিল। অথচ আজ সেই ঢাকা দাঁড়িয়ে আছে এক গভীর সংকটের মুখে। জনসংখ্যার ভারে ন্যুব্জ, দূষণে ক্লান্ত, পরিকল্পনাহীনতায় জর্জরিত এই শহর কার্যত মৃতপ্রায়। বাতাস বিষাক্ত, পানি অনিরাপদ, খেলার মাঠ বিলুপ্ত, রাস্তা অচল, যানজট নিত্যদিনের শ্বাসরোধ। এটি যেন ধীরে ধীরে নিভে যাওয়া এক মহান নগর।
গুলশান সোসাইটির সভাপতি বলেন, জাতিসংঘের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, ঢাকা ইতোমধ্যে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। ২০৪৫ সালের মধ্যে এটি হবে বিশ্বের সর্ববৃহৎ নগর। এই বাস্তবতায় ঢাকা আর কেবল একটি শহর নয়, এটি একটি জাতীয় প্রশ্ন। অথচ এই ইন্টেরিম সরকারের পক্ষ থেকে সবকিছু সংস্কারের আলাপ হলেও ঢাকা সংস্কারের কোনো আলাপ হয়নি। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ঢাকা বাঁচাতে একটি সুস্পষ্ট, সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব স্পষ্ট। এই নগর বাঁচাতে হলে বাতাস, পানি, চলাচল, খেলার মাঠ, বাসযোগ্যতা সবকিছুকে একসঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে।
ওমর সাদাত বলেন, আমাদের ভালোবাসার এই ঢাকাকে বাঁচাতে হবে এ দেশের জন্য, আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য।
নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম বাংলাদেশের সভাপতি মতিন আব্দুল্লাহর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, সংসদ সদস্য প্রার্থী, নগর পরিকল্পনাবিদরা উপস্থিত ছিলেন।
আমার বার্তা জেএইচ
