কার্বন বাণিজ্যে বাংলাদেশের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে: মিচেল লি
প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:৫০ | অনলাইন সংস্করণ
রানা এস এম সোহেল

আন্তর্জাতিক কার্বন বাণিজ্যে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণের বড় সুযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত সিঙ্গাপুর হাই কমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মিচেল লি। পরিবেশবান্ধব ভবিষ্যৎ নির্মাণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের সংকট মোকাবিলায় কার্বন বাণিজ্যের পাশাপাশি পানি ব্যবস্থাপনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও আধুনিক প্রযুক্তিতে দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ঢাকায় সিঙ্গাপুর হাইকমিশনে ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড জাস্টিস ফাউন্ডেশনের (সিএজেএফ) একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। গত বুধবার (০২ সেপ্টেম্বর) সিঙ্গাপুর হাই কমিশনের সভাকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে জলবায়ু কার্যক্রম ও ন্যায়বিচার, কার্বন বাণিজ্য, নবায়নযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, পানি ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু প্রযুক্তি, টেকসই নগরায়ণ, খাদ্য নিরাপত্তা এবং দুই দেশের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় নিয়ে আলোচনা হয়।
সিএজেএফের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান আরিফুজ্জামান মামুনের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল রওমান স্মিতা, সিনিয়র সাংবাদিক মঈন উদ্দিন খান, ইমতিয়াজ আহমেদ, দৈনিক আমার বার্তার উপসম্পাদক রানা এস এম সোহেল ও মেহেদী হাসান খান।
বৈঠকে মিচেল লি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কার্বন বাণিজ্য বাংলাদেশের জন্য নতুন অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। এটি এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র, যেখানে বাংলাদেশ নিজের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সুবিধাও অর্জন করতে পারে। আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই সুযোগ কাজে লাগাতে বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার ওপরও জোর দেন তিনি।
সিঙ্গাপুরের উল্লম্ব কৃষি এবং সীমিত ভূমিতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে টেকসই খাদ্য উৎপাদনের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন কূটনীতিতে অভিজ্ঞ এই চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স । পানি ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি দক্ষতা, খাদ্য উৎপাদন ও টেকসই নগর উন্নয়নে সিঙ্গাপুরের অর্জন বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষণীয় হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মিচেল লি বলেন, সীমিত ভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদের মধ্যেও আধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে সিঙ্গাপুর টেকসই নগর উন্নয়ন নিশ্চিত করেছে। বিশেষ করে পানি ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি দক্ষতা, বর্জ্য শোধন ও উল্লম্ব কৃষিতে সিঙ্গাপুরের প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য কার্যকর হতে পারে।
সিএজেএফের চেয়ারম্যান আরিফুজ্জামান মামুন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এখন শুধু পরিবেশগত সংকট নয়; এটি অর্থনীতি, খাদ্য নিরাপত্তা, পানি, স্বাস্থ্য, নগরায়ণ এবং মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই জলবায়ু মোকাবিলায় বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগানো প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। অন্যদিকে সীমিত ভূমি, পানি ও প্রাকৃতিক সম্পদের মধ্যেও প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সিঙ্গাপুর। দুই দেশের অভিজ্ঞতার সমন্বয় জলবায়ু মোকাবিলায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে। পরিবেশ রক্ষায় জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বাংলাদেশকে আরো বেশি গুরুত্ব দেয়ার কথা তুলে ধরেন সিনিয়র সাংবাদিক রানা এস এম সোহেল।
বৈঠকে বাংলাদেশে কার্বন প্রকল্পের সম্ভাবনা, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগ আকর্ষণের বিষয়েও মতবিনিময় হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। এক্ষেত্রে এফটিএ বিশাল ভূমিকা রাখতে পারে বলে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করে।
বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে সিঙ্গাপুরে সবজি, সামুদ্রিক খাদ্যসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য সরবরাহের সুযোগ এবং সিঙ্গাপুরের আধুনিক খাদ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণ প্রযুক্তি থেকে বাংলাদেশের শেখার বিষয়টি ও গুরুত্ব পায়।
বৈঠকে সিঙ্গাপুরের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স দূরদর্শী, বাস্তবসম্মত ও ইতিবাচক উদ্যোগে সহযোগিতা ও সমন্বয়ের আগ্রহ প্রকাশ করেন। ভবিষ্যতে জলবায়ু, পরিবেশ, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, খাদ্য নিরাপত্তা, নগর ব্যবস্থাপনা ও কার্বন বাণিজ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দুই দেশের বেসরকারি ও নাগরিক পর্যায়ের অংশীদারত্ব আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
