বাংলাদেশে Tealive-এর যাত্রা: ‘বাবল টি ডিপ্লোম্যাসি’তে নতুন মাত্রা

চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স হাজওয়ান

প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:২৬ | অনলাইন সংস্করণ

  রানা এস এম সোহেল

মালয়েশিয়ার জনপ্রিয় লাইফস্টাইল টি ব্র্যান্ড Tealive-এর বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক যাত্রার মধ্য দিয়ে মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে যুক্ত হলো নতুন মাত্রা। রাজধানীর বনানী ১১ ও গুলশান ২-এ দুটি আউটলেট উদ্বোধনের মাধ্যমে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করেছে ব্র্যান্ডটি। আগামী সপ্তাহে চট্টগ্রামের খুলশিতে তৃতীয় আউটলেট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) বাংলাদেশে অবস্থিত মালয়েশিয়া হাইকমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স হাজওয়ান হাসনল এই আউটলেট উদ্বোধন করেন ।

অনুষ্ঠানে বক্তব্যে হাজওয়ান হাসনল বাংলাদেশে Tealive-এর যাত্রাকে স্বাগত জানিয়ে A & I Group-এর গ্রুপ ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোহাম্মদ ইরাদ আলী, A&I Food and Beverages-এর দল এবং Tealive Malaysia-এর প্রচেষ্টা ও প্রতিশ্রুতির প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এটি শুধু একটি নতুন বাবল টি আউটলেটের উদ্বোধন নয়; বরং বাংলাদেশের মাটিতে মালয়েশিয়ার স্বাদের একটি অংশের আগমন।

হাসানুল হাজওয়ান উল্লেখ করেন, Tealive মালয়েশিয়ার মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত একটি ব্র্যান্ড। কর্মক্ষেত্রে বিরতি, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো কিংবা গরমের দিনে সতেজতা—বিভিন্ন উপলক্ষে মালয়েশিয়ানদের কাছে Tealive পরিচিত নাম। মালয়েশিয়ায় যাত্রা শুরু করা ব্র্যান্ডটি বর্তমানে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত লাইফস্টাইল টি ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে। ১২টি দেশে ৯৫০টিরও বেশি আউটলেট রয়েছে এর।

ব্র্যান্ডটির জনপ্রিয় পণ্যের মধ্যে রয়েছে ব্রাউন সুগার পার্ল মিল্ক টি, ফ্রুট টি, কফি ও স্মুদি। বাংলাদেশে একসঙ্গে তিনটি আউটলেট চালুর উদ্যোগকে তিনি দেশের বাজারের সম্ভাবনার প্রতি Tealive ও A&I Food and Beverages-এর আস্থার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে ধরে হাসানুল হাজওয়ান বলেন, দুই দেশের সহযোগিতা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, পর্যটন, স্বাস্থ্যসেবা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিস্তৃত হয়েছে। Tealive-এর আগমন সেই সম্পর্কের সঙ্গে যুক্ত করেছে নতুন একটি মাত্রা—‘বাবল টি ডিপ্লোম্যাসি’।

তার মতে, কূটনীতি শুধু বৈঠক, আলোচনা ও চুক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এক কাপ চায়ের আড্ডার মধ্য দিয়েও মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব ও যোগাযোগ তৈরি হতে পারে। খাবার ও পানীয় মানুষকে একত্র করে, সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করায় এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ায়। সে অর্থে বাংলাদেশে Tealive-এর যাত্রা ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের পাশাপাশি ফুড ডিপ্লোম্যাসিরও একটি উদাহরণ।

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মানুষের চায়ের প্রতি ভালোবাসার মিলের কথাও তুলে ধরেন তিনি। বাংলাদেশের দীর্ঘ চা-সংস্কৃতির সঙ্গে মালয়েশিয়ার আধুনিক চা-সংস্কৃতির সংযোগ বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয়তা পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

হাজওয়ান আরও বলেন, Tealive একটি হালাল-সার্টিফায়েড মালয়েশিয়ান ব্র্যান্ড, যা গুণগত মান, ভোক্তার আস্থা এবং মালয়েশিয়ার হালাল শিল্পের প্রতি দেশটির গুরুত্বকে তুলে ধরে। বাংলাদেশেও হালাল পণ্যের প্রতি ভোক্তাদের আগ্রহ থাকায় বিষয়টি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

তিনি A&I Food and Beverages-এর অভিজ্ঞতা ও উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, এ ধরনের অংশীদারিত্ব দুই দেশের ব্যবসায়ীদের নতুন সুযোগ অন্বেষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে। মালয়েশিয়ার আরও ব্র্যান্ড ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করার পাশাপাশি দুই দেশের উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

শেষে বাংলাদেশিদের Tealive-এর বিভিন্ন পানীয়ের স্বাদ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে হাসানুল হাজওয়ান বলেন, ভবিষ্যতে ঢাকায় ‘চলো চা খেতে যাই’ কথাটির অর্থ হয়তো হয়ে উঠতে পারে—‘চলো Tealive-এ যাই।’

বাংলাদেশে Tealive-এর যাত্রা তাই শুধু একটি নতুন ব্র্যান্ডের বাজার সম্প্রসারণ নয়; বরং দুই দেশের ব্যবসা, সংস্কৃতি ও মানুষের সম্পর্ককে আরও কাছাকাছি আনার একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।