ঢাকা ১৯ আসনে জামায়াতের পরিবর্তে এনসিপি, ভোটার ও নেতাকর্মীদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:১২ | অনলাইন সংস্করণ

  আশুলিয়া (ঢাকা) প্রতিনিধি:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য ২৫৩টি আসনে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে ৩০টি আসনে, যার একটি ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসন। এই আসনে পূর্বঘোষিত জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মোহাম্মদ আফজাল হোসাইন এর পরিবর্তে এনসিপির প্রার্থী দিলশানা পারুলকে মনোনয়ন দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জোট।

শিল্পাঞ্চল সাভার ও আশুলিয়া নিয়ে গঠিত গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে জোটের একাধিক প্রার্থী রয়েছে৷ তাদের মধ্যে ভোটের মাঠে জনপ্রিয় জামায়াত প্রার্থী মাওলানা মোহাম্মাদ আফজাল হোসাইন সংগঠনের এই সিদ্ধান্ত মেনে নিলেও দলের কর্মী-সমর্থক ও সাধারন ভোটারদের মাঝে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে ।

স্থানীয় ভোটারদের মতে, ঢাকা-১৯ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য ডাঃ দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর শক্ত অবস্থান থাকলেও ভোটের মাঠে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মোহাম্মদ আফজাল হোসাইন তার ব্যাপক তৎপরতায় ইতিমধ্যে ভোটারদের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছেন। তার জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে। অন্যদিকে এনসিপি মনোনীত দিলশানা পারুল এই আসনে একেবারেই নতুন মুখ। এর আগে সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তারাশ) আসন থেকে মনোনয়ন নিয়েছিলেন তিনি। তবে সেখানে তার প্রার্থিতা বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে জামায়াতের তুলনায় এনসিপির এই প্রার্থী ভোটের মাঠে একেবারে দুর্বল বলেও মন্তব্য করেছেন অনেকে।

জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মোহাম্মদ আফজাল হোসাইন বলেন, প্রার্থীতার বিষয়ে এখনো দলীয়ভাবে সাংগঠনিক কোনো নির্দেশনা পাইনি। যেহেতু ২০ তারিখ মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন, তাই সংগঠনের নির্দেশনার অপেক্ষা করব। সংগঠনের প্রতি আমরা আনুগত্যশীল। সংগঠনের নির্দেশনা অনুযায়ী এগোনোর চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ। সবাইকে ধৈর্যধারণ করার পরামর্শও দেন তিনি।

এনসিপির প্রার্থী দিলশানা পারুল দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সিদ্ধান্তের উপর আস্থা রেখে বলেন, জেনে বুঝে আমার এ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। পার্টি থাকলে পলিটিক্স দাড়াবে। এনসিপির আত্মবিশ্বাসের উপর অনেক কিছু নির্ভর করবে। এছাড়াও দলের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে এ বিষয়ে কথা বলতে তিনি অনিহা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই আসন নিয়ে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের এমন আকস্মিক সিদ্ধান্তে হতবাক ঢাকা-১৯ আসনের সর্বস্তরের জনগন। দীর্ঘদিন ধরে নিজের নির্বাচনী প্রচারনা চালানোর পর জোটের এমন সিদ্ধান্তে জামায়াত প্রার্থী আফজাল হোসাইন বিচলিত না হয়ে ধৈর্য ধরার আহবান জানালেও, তার ধৈর্যের প্রশংসা ও জোটের সিদ্ধান্তকে বিপদজনক বলে মন্তব্য করেছেন সাধারন জনগন। ভোটের মাঠে আবেগ না, মাঠের বাস্তবতায় সঠিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়া উচিত  বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরাও।


আমার বার্তা/এমই