নেতাকে তুষ্ট করে প্রমোশনের সিস্টেম ভাঙতে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে
প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:৩৪ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু, পানিসম্পদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা সিদ্দিকী বলেছেন, ক্ষমতাসীন নেতাকে তুষ্ট করে আমলাতন্ত্রের প্রমোশনের সিস্টেম ভাঙতেই ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে।
তিনি বলেন, যখন থেকে আমরা দায়িত্ব নিয়েছি, তখন থেকেই শুনি এই কর্মকর্তা হচ্ছে আওয়ামী লীগের, এই কর্মকর্তা হচ্ছে বিএনপির, ওই কর্মকর্তা হচ্ছে জামায়াতের। এগুলো কথা তো শোনা যাবে না। কর্মকর্তা হতে হবে প্রজাতন্ত্রের, সে সেবা করবে জনগণের। তার নিজস্ব রাজনৈতিক আদর্শ থাকতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনকালে সেটার প্রতিফলন হতে পারে না। এটা করতে গিয়ে আমাদের যে আমলাতন্ত্র, এটা কখনও জনসেবায় অভ্যস্ত হয়নি, সে অভ্যস্ত হয়েছে নেতা তুষ্টিতে। কারণ, সে জানে ক্ষমতাসীন নেতাকে তুষ্ট করতে পারলেই তার প্রমোশন হবে। এই সিস্টেম ভাঙতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকারি পরীক্ষার ক্ষেত্রে ভালো ছেলে-মেয়েরা পরীক্ষা দিয়ে যখন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে নিযুক্ত হয়, তখন তাদেরকে দলীয় বানিয়ে ফেলা হয়। যাতে দলীয় বানানো না যায়, এজন্য সরকারি কর্ম কমিশনে সরকারি দল একলা একলা নিয়োগ দিতে পারবে না। কর্ম কমিশন যখন সিদ্ধান্ত নেয়, তখন বিরোধী দলও সঙ্গে থাকবে। তখন নেতার তুষ্টিও থাকবে না।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুর জেলা প্রশাসন আয়োজিত শহরের অম্বিকা মেমোরিয়াল ময়দানে আয়োজিত গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে, জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে গণভোটের রিকশা, গণভোটের প্রচার কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। পরে সেখান থেকে বর্ণাঢ্য র্যালি নিয়ে এই মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্যা।
এ সময় তিনি দেশকে ব্যক্তিপূজায় পরিণত না করার জন্য ‘হ্যাঁ’-তে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সংসদে দাঁড়িয়ে জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট আইন পাস হবে—সেটা হয় না। কারণ, মমতাজের গান শুনতে যিনি স্পিকার থাকেন, উনিও খুশি, ডেপুটি স্পিকার থাকেন, উনিও খুশি। ওনারা তো দলীয় দাস। সেটা আমরা করতে দিতে চাই না। আমরা যাদের নির্বাচিত করব, আমাদের মহান সংসদের দায়িত্বে তারা থাকবেন। তারা ওই সংসদকে জাতীয় স্বার্থে ভালো ভালো আইন প্রয়োগ করার জন্য, আইন প্রণয়ন করার জন্য সব সমাজের জবাবদিহিতা আনার জন্য কাজ করবেন। ওখানে ব্যক্তি স্তুতির জন্য, গান গাওয়ার জন্য আমরা সংসদ সদস্য নির্বাচন করি না। এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে এসবের পরিবর্তন হবে। কারণ, স্পিকার হবে সরকার দল থেকে, ডেপুটি স্পিকার হবে বিরোধী দল থেকে। তখন ডেপুটি স্পিকার বলতে পারবে, এই ভোট জনস্বার্থে প্রচারিত হতে পারে না।
‘হ্যাঁ’-তে ভোট দিলে নতুন নেতৃত্ব বিকশিত হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা যতবারই ভোট দিতে চাই—এটা হচ্ছে মুই আর মামুরা। আমাদের তো নতুন নেতৃত্ব বিকশিত হতে পারে না। কেন যেন বিকশিত হয় না। কারণ, আমি জানি এই দল থাকা মানে, এই নেতৃত্বই আসবে। ‘হ্যাঁ’-তে ভোট দিয়ে যখন নিয়ম হয়ে যাবে যে ১০ বছরের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবে না, তখন দলগুলোও নতুন নেতৃত্ব গড়বার ব্যাপারে মনোযোগী হবে। তখন সমাজে তরুণ প্রজন্ম রাজনীতিতে আগ্রহী হবে।
তিনি বলেন, শুধু বালুমহাল, পাথরমহাল—এগুলো কিন্তু নেতার কাজ না, নেতার কাজ হচ্ছে অবৈধ কাজ নিয়ন্ত্রণ করা। আমরা সেটা না করে কন্ট্রাক্ট কেমন করে করব এই তালে থাকি। এই তালে থাকলেও তো হবে না। এই যে ১০ বছরের বেশি কেউ থাকবে না—এই মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন আসলে রাজনীতিবিদদের যে ক্ষমতার লোভ আছে, এটাকে পরিহার করে নতুন নেতৃত্ব গড়ার সুযোগ দেবে।
এ ছাড়া, সংসদে নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি, বিচার বিভাগকে স্বাধীন ও মানসম্মত করতে এবং সরকারি দলে দুষ্টের দমন করতে ‘হ্যাঁ’-তে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন—আপনার এলাকায় একটি খুন হয়েছে, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে আপনি নিশ্চিত জানেন যে ওই খুন কে করেছে। এরপর ওই খুনির যখন ফাঁসির রায় হয় এবং ওই খুনি যে দলের রাজনীতি করত, সেই দল ক্ষমতায় আসলে তখন রাষ্ট্রপতি বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় তাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল, তার শাস্তি মওকুফ। এটা তো দুষ্টের দমন হলো না। এই দুষ্ট লোকগুলোকে দলের প্রতিরক্ষা হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আমরা এটা চাই না। আমরা দুষ্টের দমন করব, সৃষ্টের পালন করব।
এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মিস লামিয়া আহমেদ, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মিস মাহবুবা ফারজানা। এ ছাড়া, নির্বাচনকালীন জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলে ধরেন পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম। এ মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও সাধারণ ভোটাররা অংশগ্রহণ করেন।
আমার বার্তা/এমই
