
রোজা শুরুর আগেই রাজবাড়ীর কাঁচাবাজারগুলোতে লেবুর দামে আগুন। হঠাৎ ৪০ থেকে ৫০ টাকা দাম বেড়ে প্রতি হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। রোজা শুরুর আগেই লেবুর দাম হালি প্রতি বেড়েছে চারগুণ।
রোজা শুরুর আগেই লেবুর দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, সামনের দিনগুলোতে আরও বাড়তে পারে লেবুর দাম।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজবাড়ী শহরের বড় বাজার, শ্রিপুর বাজার ও নতুন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আকার ভেদে প্রতি হালি লেবু ৫০ টাকা থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া, একটু সাইজ বড় হলে দাম হাঁকানো হচ্ছে ৮০ টাকা।
বাড়িতে অনুষ্ঠান উপলক্ষে সালাদ তৈরির জন্য লেবু কিনতে এসেছিলেন আব্দুল মালেক একজন। তিনি জানান, অনুষ্ঠানে সালাদ সবার প্রিয়। শশা, গাজর, টমেটোর পাশাপাশি ভেবেছিলাম লেবু রাখবো। কিন্তু ৩টি দোকান ঘুরলাম, দাম আগের সপ্তাহের থেকে ডাবল। ৬০ টাকা হালি দাম চাওয়া হচ্ছে। এত দাম দিয়ে লেবু কেনার সামর্থ্য আমার নেই।
রবিউল ইসলাম নামে আরেক ক্রেতা বলেন, রমজানকে সামনে রেখে লেবু এখন বিলাসী পণ্যের মতো হয়ে গেছে। আগে তরকারি বা ভাতের সঙ্গে নিয়মিত খেতাম, আজ যে দাম দেখছি এমন দামে কিনে খাওয়ার কায়দা নেই। এবার লেবুর দাম যেভাবে দ্রুত বেড়েছে, তা সাধারণ মানুষের বাজেটে নতুন চাপ তৈরি করেছে। বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক নজরদারি দুটোই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
রাজবাড়ী বড় বাজারে লেবু বিক্রেতা সালাম শেখ বলেন, বাজারে লেবুর আমদানি নেই। এজন্য আমাদের বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে। যেসব গাছে সারা বছর কিছুটা লেবু পাওয়া যায়, সেগুলোর ফলই এখন বাজারে আসছে। সরবরাহ কম থাকায় এখন দাম বাড়ছে।
আরেক বিক্রেতা আজিজুল ইসলাম বলেন, লেবু এখন কম পাওয়া যাচ্ছে। যেগুলো পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো বারোমাসি লেবু। এগুলো অতিরিক্ত দামে কিনতে হয় আমাদের। নতুন মৌসুমের লেবু বাজারে আসা শুরু করলে দাম কিছুটা কমতে পারে।
এদিকে বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের গাঙ চর পদমদি গ্রামে আড়াই পাখি জমিতে ৮ বছর ধরে লেবু চাষ করেন আবু বক্কার। তিনি জানান, বছরের অধিকাংশ সময় লেবুর দাম কম থাকে। যখন কম থাকে তখন আকার ভেদে ১০০ পিস লেবু বিক্রি করতে হয় ৬০ টাকা থেকে ১২০ টাকায়। এখন লেবুর সিজন না, গাছে ফলনও অনেক কম। এখন আমরা আকার ভেদে ১০০ পিস লেবু ৮০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি করছি।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর রাজবাড়ী জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (অ.দা.) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, বাজারে লেবুর আমদানি এখন অনেক কম, এজন্য দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যেন স্বাভাবিক থাকে এবং নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকে সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি আমরা। আর্থিক জরিমানাসহ অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।

