ভাষার চেতনায় কয়রা প্রেসক্লাবের আলোচনা
প্রকাশ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩:১১ | অনলাইন সংস্করণ
শেখ সিরাজউদ্দৌলা লিংকন

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে খুলনার কয়রায় এক হৃদয়স্পর্শী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভাষা শহীদদের স্মরণ, মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা এবং নতুন প্রজন্মের মাঝে ভাষা আন্দোলনের চেতনা জাগ্রত করার লক্ষ্যে কয়রা প্রেসক্লাব এ আয়োজন করে।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় কয়রা প্রেসক্লাবের হলরুমে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাবের সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ সদর উদ্দীন আহমেদ। সভার শুরুতেই ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর ধারাবাহিকভাবে বক্তারা ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট, এর তাৎপর্য এবং বর্তমান প্রজন্মের দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।
সভাপতির বক্তব্যে আলহাজ্ব মোঃ সদর উদ্দীন আহমেদ বলেন, মাতৃভাষার জন্য জীবনদান বিশ্ব ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তিনি বলেন, ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই আজ আমরা স্বাধীনভাবে বাংলা ভাষায় কথা বলতে পারছি। তাই ভাষার সঠিক ব্যবহার ও চর্চা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন কয়রা প্রেসক্লাবের সাবেক আহ্বায়ক শেখ হারুন অর রশীদ, সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিতিশ সানা। বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস শুধু শোকের নয়, এটি আমাদের গর্বের দিন। বাংলা ভাষাকে বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে শুদ্ধ চর্চা ও প্রযুক্তিতে বাংলা ভাষার ব্যবহার বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি মোঃ আলাউদ্দিন, নির্বাহী সদস্য শেখ সিরাজুদৌলা লিংকন এবং সদস্য কোহিনুর আলম, ফরহাদ হোসেন, ইউনুস আলীসহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ। সভায় বক্তারা বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস জানতে উদ্বুদ্ধ করতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রেসক্লাবের মতো সংগঠনগুলো নিয়মিত এ ধরনের আয়োজন করলে সমাজে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সভায় বক্তারা ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং বাংলা ভাষার শুদ্ধতা রক্ষায় সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানের শেষপর্বে দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভাটি ছিল শ্রদ্ধা, স্মরণ ও প্রেরণার এক অনন্য আয়োজন। ভাষার মর্যাদা রক্ষা ও চর্চায় আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার প্রত্যয়ে অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সমাপ্ত হয়।
