শতবর্ষে পা রাখলো সরিষাকান্দা ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

প্রকাশ : ২৩ মার্চ ২০২৬, ১৮:০৫ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

সুনামগঞ্জ জেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরিষাকান্দা ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শতবর্ষের গৌরবময় মাইলফলক অতিক্রম করেছে। ১৯২৬ সালের এই দিনে প্রতিষ্ঠিত হওয়া বিদ্যালয়টি দীর্ঘ এক শতাব্দী ধরে শিক্ষা বিস্তার, মানবিক মূল্যবোধ গঠন এবং আলোকিত মানুষ তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। শত বছরের পথচলায় অসংখ্য শিক্ষার্থী এখান থেকে প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি অর্জন করে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবদান রাখছেন—যা প্রতিষ্ঠানটির ঐতিহ্য ও সাফল্যের উজ্জ্বল সাক্ষ্য বহন করে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবুল হোসেন সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে  প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গুরুদয়াল সরকারি কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক মো. শাহাদত হোসেন।  বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এসকেএফ এর পারচেজ এন্ড সাপ্লাই চেইনের এজিএম তোহিদুল হক হাবি ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী মো. জসিম উদ্দিন।

আব্দুল্লাহ আল কাউছার ও রাকাব উদ্দিন শিশিরের পরিচালনায় অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য দেন, খাদ্য বিভাগের উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. সাখাওয়াত হোসেন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম, বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের হিসাব রক্ষক মো. মাকসুদ আলম মুসা, শ্রেষ্ঠ জয়িতা মা পুরস্কারপ্রাপ্ত জ্যোৎস্না বেগম, বিদ্যালয়ের প্রাক্তণ শিক্ষার্থী জহিরুল ইসলাম রানা, ডা. নয়ন মিয়া, সাইদুর রহমান, তামিম আহমেদ সুজন, ওয়াহেদুর রহমান মুরাদ, তামিম আহমেদ অলিউল্লাহ, তফাজ্জল হোসেন রাকিব, আব্দল্লাহ আল মামুন, সারোয়ার হোসেন, ডা. ফজলুল হক, গোলাম কিবরিয়া ও শহীদুল হক প্রমুখ। বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে  উপলক্ষে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাবেক শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। শতবর্ষ উদযাপনকে ঘিরে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সাংস্কৃতিক বিভাগের উদ্যোগে আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ করা হয়।

 বিকেলে বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে সৃষ্টি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ। দীর্ঘদিন পর সহপাঠীদের সঙ্গে পুনর্মিলনে অনেকেই স্মৃতিচারণ করেন তাঁদের শৈশব-কৈশোরের সোনালি দিনগুলোর কথা। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্তরিক মিলনমেলা যেন এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মের মধ্যে ঐতিহ্যের সেতুবন্ধন তৈরি করে। 

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের অর্জন নয়—এটি একটি অঞ্চলের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক উন্নয়নের ধারাবাহিকতার প্রতীক। বক্তারা বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে আগামী দিনেও এই প্রতিষ্ঠান যেন নতুন প্রজন্মকে আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে অগ্রণী ভূমিকা রাখে—সে প্রত্যাশাও ব্যক্ত করা হয়। 

শতবর্ষ পূর্তির এই আয়োজনকে ঘিরে পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। শিক্ষা বিস্তারের এক শতাব্দীর পথচলা পেরিয়ে সরিষাকান্দা ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবিষ্যতেও তার গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য ধরে রেখে নতুন প্রজন্মের জন্য আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট সবার। 


আমার বার্তা/এমই