ফেসবুক পোস্ট নিয়ে মারামারি, ভাইয়ের হাতে কৃষকদল নেতা নিহতের অভিযোগ
প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০২৬, ০৯:৫৭ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডে ফেসবুক স্ট্যাটাস ও কমেন্ট করাকে কেন্দ্র করে দুই চাচাতো ভাইয়ের পরিবারের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে আবুল কাশেম (৫০) নামের এক কৃষকদল নেতা নিহত হয়েছেন।
বুধবার (২৫ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার কাপাশহাটিয়া ইউনিয়নের কুল্ল্যাগাছা ভাতুড়িয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত আবুল কাশেম ওই গ্রামের আব্দুল লতিফ মণ্ডলের ছেলে এবং কাপাশহাটিয়া ইউনিয়ন কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
স্থানীয়রা জানায়, ঈদুল ফিতরের কয়েকদিন আগে ফেসবুক পোস্টে কমেন্ট করা নিয়ে ওই গ্রামের আব্দুল আজিজ ও কৃষকদল নেতা আবুল কাশেমের বাকবিতন্ডা হয়। তারা একে অপরের চাচাতো ভাই। বাকবিতন্ডার জেরে বুধবার রাতে আবুল কাশেম ও আব্দুল আজিজ হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে উভয়ের পরিবারের লোকজন মারামারিতে লিপ্ত হয়। মারামারির এক পর্যায়ে অচেতন হয়ে মাটিতে পড়ে যান আবুল কাশেম। পরে তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
কাপাশহাটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরাফুদ্দৌলা ঝন্টু জানান, তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে একই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ ও মারামারি হয়েছে। কয়েকদিন ধরেই তাদের মাঝে বিরোধ চলে আসছিল।
এ দিকে এ ঘটনাকে রাজনৈতিক বিরোধ দাবি করে জেলা যুবদলে সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম পিন্টু অভিযোগ করেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের লোকজনের যৌথ হামলায় কৃষকদল নেতা নিহত হয়েছেন। জামায়াতের লোকজন ঝিনাইদহে গুপ্ত হত্যার রাজনীতি শুরু করেছে।
হরিণাকুন্ডু উপজেলা জামায়াতের আমির বাবুল হোসেন জামায়াতের অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়া নিয়ে একই পরিবারের সদ্যদের মধ্যে মারামারি হয়েছে। একপর্যায়ে নিহত আবুল কাশেম তারই চাচা নাজের মণ্ডলের ছোরা ইটের আঘাতে মারা গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু এ ন্যক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জামায়াত জড়িত নয়।
সদর হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক জুবায়ের আহমেদ বলেন, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই আবুল কাশেম নামে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। মরহেদে গুরুতর আঘাতের কোনো চিহ্ন ছিল না। তবে ময়নাতদন্তের পরে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
এ ব্যাপারে হরিণাকুন্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কিবরিয়া জানান, ফেসবুকে লেখালেখি নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে মারামারি হয়েছে বলে শুনেছি। আমি ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা করেছি। চাচাতো ভাইদের মাঝে মারামারি হয়েছে, এমনটা জানতে পেরেছি। তবে এ ঘটনায় এখনও কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। মরদেহ ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
আমার বার্তা/জেএইচ
