বিএলআরআইতে পোল্ট্রি গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদারকরণ প্রকল্পের সমাপনী কর্মশালা
প্রকাশ : ২০ জুন ২০২৬, ১৫:৫৪ | অনলাইন সংস্করণ
শফিক রানা ( বিশেষ প্রতিনিধি):

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন “পোল্ট্রি গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদারকরণ (দ্বিতীয় সংশোধিত)” শীর্ষক উন্নয়ন প্রকল্পের সমাপনী কর্মশালা আজ (২০ জুন) সাভারে বিএলআরআই এর প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
সমাপনী কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত সচিব জনাব মো. দেলোয়ার হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএলআরআই এর প্রাক্তন মহাপরিচালক ড. কাজী ইমদাদুল হক এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (সম্প্রসারণ) ডা. বেগম শামছুননাহার আহম্মদ। উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক।
বেলা ১১.০০ ঘটিকায় ইনস্টিটিউটের সম্মেলন কক্ষে (চতুর্থ তলা) পবিত্র ধর্মগ্রন্থ হতে পাঠের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু্ হয়। এরপর আমন্ত্রিত অতিথিদের উদ্দেশ্যে স্বাগত বক্তব্য এবং পোল্ট্রি গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদারকরণ (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ও অর্জন তুলে ধরেন প্রকল্পটির প্রকল্প পরিচালক এবং বিএলআরআই এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও দপ্তর প্রধান ড. মো. সাজেদুল করিম সরকার। এসময় তিনি প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রমের ফলাফল এবং প্রকল্পের ভৌত ও অবকাঠামোগণ অর্জনসমূহও তুলে ধরেন।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের পরে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষজ্ঞ আলোচনা। এসময় আলোচনা করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ এর পোল্ট্রি বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মো. শওকত আলী এবং বিএলআরআই এর প্রাক্তন মহাপরিচালক ড. নাথু রাম সরকার। বিশেষজ্ঞ আলোচকগণের আলোচনার পরে অনুষ্ঠিত হয় উন্মুক্ত আলোচনা। এসময় প্রকল্পের কার্যক্রমসমূহের বিষয়ে বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয় হতে আগত প্রতিনিধিবৃন্দ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগত অধ্যাপকবৃন্দ এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংগঠন থেকে আগত প্রতিনিধিবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সম্মানিত সচিব জনাব মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, জ্ঞান বিজ্ঞানে এগিয়ে যেতে হলে উদ্ভাবিত প্রযুক্তিসমূহের প্যাটেন্ট নিশ্চিত করতে হবে। প্রকল্পের আওতায় যেসব প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হয়েছে, দ্রুতই সেগুলোর প্যাটেন্টের জন্য আবেদন করতে হবে। আর এজন্য গবেষণাকে মৌলিক হতে হবে। আগামীতে বিদেশ নির্ভরতা কমিয়ে দেশের সমস্যা চিহ্নিত করে, দেশীয় লোকবল নিয়ে দেশেই উচ্চতর গবেষণা পরিচালনা করতে হবে।
পাশাপাশি এসময় কর্মশালার মাধ্যমে যে সব সমস্যার বিষয় উঠে এসেছে, সে সব সমস্যা নিরসনে বিএলআরআইকে উদ্যোগ নিতে এবং দ্রুত এ সংক্রান্ত গবেষণা প্রকল্পের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে প্রেরণের জন্যও নির্দেশনা প্রদান করেন।
বিএলআরআই এর মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক তার সমাপনী বক্তব্যে বলেন, প্রকল্পের আওতায় বেশ কিছু প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে। এসব প্রযুক্তি মাঠ পর্যায়ে সম্প্রসারণের লক্ষ্যে হস্তান্তরের পাশাপাশি প্যাটেন্টভুক্ত করার জন্যও উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রকল্পের আওতায় দেশি-বিদেশি বেশ কিছু জার্মপ্লাজম সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় যে সকল খামারিদেরকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে, তাদের অনেকেই উদ্যোক্তা হয়ে উঠেছেন। প্রকল্পের আওতায় যে সব যন্ত্রপাতি ক্রয় করা হয়েছে তা যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হবে এবং প্রকল্পের আওতায় কর্মরত দক্ষ জনবল যেনো ভবিষ্যতে সংরক্ষণ করা যায় সে বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
উক্ত কর্মশালায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিবৃন্দ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রতিনিধিবৃন্দ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, পোল্ট্রি উৎপাদন ও গবেষণা সংক্রান্ত কাজের সাথে সম্পৃক্ত বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও এনজিও প্রতিনিধিবৃন্দ, বিএলআরআই এর বিভিন্ন পর্যায়ের বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আমার বার্তা/এমই
