সিলেট ও চট্টগ্রামে ১০ স্টেশনে পানি বিপৎসীমার ওপরে, বন্যার আশঙ্কা

প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০২৬, ১১:১২ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

সক্রিয় মৌসুমি বায়ু এবং উজানের ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাবে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের প্রধান নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের মোট ১০টি পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং আরও ৪টি পয়েন্ট সতর্ক সীমায় অবস্থান করছে। এর ফলে দুই বিভাগের ৭টি জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলগুলোতে বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল অর্থাৎ সিলেট বিভাগের ৪টি প্রধান নদীর ৬টি স্টেশন এখন বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে। এর মধ্যে কুশিয়ারা নদীর মারকুলি (সুনামগঞ্জ) পয়েন্ট, মনু নদীর মনু রেলওয়ে ব্রিজ ও মৌলভীবাজার সদর পয়েন্ট, ধলাই নদীর কমলগঞ্জ পয়েন্ট এবং খোয়াই নদীর বল্লা ও হবিগঞ্জ সদর পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এছাড়া এই বিভাগের কুশিয়ারা নদীর শেওলা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও শেরপুর স্টেশন বর্তমানে সতর্ক সীমায় প্রবাহিত হচ্ছে, যা যেকোনো সময় আরও বাড়তে পারে।

অন্যদিকে পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল তথা চট্টগ্রাম বিভাগের সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ৪টি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে সাঙ্গু নদীর বান্দরবান সদর ও দোহাজারী (চট্টগ্রাম) পয়েন্ট এবং মাতামুহুরী নদীর লামা (বান্দরবান) ও চিরিঙ্গা (কক্সবাজার) পয়েন্টের পানি বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম জেলার হালদা নদীর পানি পাঁচপুকুরিয়া পয়েন্টে সতর্ক সীমায় অবস্থান করছে।

নদীগুলোর পানি ক্রমাগত বৃদ্ধির ফলে সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সিলেট জেলা এবং চট্টগ্রাম বিভাগের বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এবং স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব এলাকার বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।


আমার বার্তা /জেএইচ