সাভারের কাউন্দিয়ায় বাড়ি ভাঙচুর ও জমি দখলের চেষ্টা
প্রকাশ : ২২ জুলাই ২০২৬, ১৬:২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আনিছ মাহমুদ লিমন:

ঢাকা জেলার সাভার থানার অন্তর্গত কাউন্দিয়া ইউনিয়নের চান্দারটেক এলাকার মোঃ ফারুক হোসেনের পৈত্রিক জমির সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে বাড়ি-ঘর ভাঙচুর, মালামাল ও নির্মাণ সামগ্রী লুটের অভিযোগ উঠেছে মোঃ হানিফ গং ও তাদের ভাড়াটে বাহিনী বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন থেকে ভুক্তভোগী ফারক ও মোঃ হানিফের মধ্যে জায়গা-জমি নিয়ে নানারকম বিরোধ বিদ্যমান এবং এ বিষয়ে আদালতে একটি সি,আর মামলা ও একটি দেওয়ানি মামলা চলমান।আদালতের বিচারাধীন বিষয়কে অবমাননা করে হানিফ তার দলবল নিয়ে ভুক্তভোগী ফারুককে একাধিকবার মারধর করা সহ বিরোধপূর্ণ জমির সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে বাড়ি ভাঙচুর, মালামাল ও নির্মাণ সামগ্রী লুটপাট করে বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী ফারুক ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা। এ বিষয়ে একাধিকবার থানায় অভিযোগ করেও পরিত্রাণ পাচ্ছে না ভুক্তভোগী ফারুকের পরিবার। দ্রুত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে ভূমিদস্যুদের লাগাম টেনে ধরে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবি স্থানীয় সচেতন মহলের।
মামলা সূত্রে ও সরজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, সাভার থানাধীন কাউন্দিয়া ইউনিয়নের বাঘসাত্রা চান্দারটেক এলাকার বাঘসাত্রা মৌজার সিএস খতিয়ান-৮১, এসএ খতিয়ান-১২, সি এস ও এস এ দাগ নং-৫৯ এর মোট জমির পরিমাণ ১৯৫ শতাংশ ইহার কাতে ৭.২০ শতাংশ জমি পিতার ওয়ারিশ সূত্রে মালিক হয়ে ভুক্তভোগী ফারুক ও তার পরিবার ভোগ দখলে রয়েছে। একই জমি নিজেদের বলে দাবি করে আসছে অভিযুক্ত মোঃ হানিফ গং।এ বিষয়ে বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ ২য় আদালত,ঢাকা এর আদালতে একটি রেকর্ড সংশোধনী দেওয়ানী মামলা চলমান রয়েছে। যার নং ৯০২/২১ইং।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, আদালতে বিচারাধীন মামলা থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্ত মোঃ হানিফের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী বাহিনী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বিগত ০৬/০৮/২০২৫ ইং তারিখে আনুমানিক সকাল ১০ ঘটিকায় ভুক্তভোগীর জমির সীমানা প্রাচীর ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে বিভিন্ন প্রকারের ফল-ফলাদীর গাছপালা কেটে ফেলে। এতে বাধা দিলে ভুক্তভোগী ফারুককেও লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং টাকা-পয়সা ও মোবাইল ছিনতাই করে নিয়ে যায়। এ বিষয়ে বিজ্ঞ চিপ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (সাভার), ঢাকা এর আদালতে ফৌজদারি অপরাধে একটি সি আর মামলার রুজু হয়। যার নং-১৪৫০/২৫ইং তারিখ-০৭/০৮/২০২৫ইং।একটি ফৌজদারি অপরাধের মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তরা বিজ্ঞ আদালতকে অমান্য করে গত ০৭/০৫/২০২৬ তারিখে ও গত১৮/০৭/২০২৬ইং তারিখে একাধিকবার ভুক্তভোগী ফারুকের জমির সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে ঘর-বাড়ি ভাঙচুর করে ও নির্মাণ সামগ্রী লুট করে এবং ভুক্তভোগী ফারুককে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করে। এই বিষয়েও থানায় একাধিকবার অভিযোগ করা হলেও স্বস্তিতে নেই ভুক্তভোগী পরিবারটি।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ফারুক এই প্রতিবেদক কে জানান,সিএস পর্চায় এই জমির মূল মালিক মুসলিম বেপারী। পরবর্তীতে পিতার ওয়ারিশ সূত্রে কদর বানু ১১ শতাংশ জমির মালিক হয়। তার মৃত্যুর পরে তার স্বামী তাজেম আলী উক্ত জমির মালিক হয় এবং এসএ রেকর্ড করে। সে ১১ শতাংশের মলিক হওয়া সত্বেও ২৭ শতাংশ জমি শরিফুনেশার নামে দলিল করে দেয় এবং দলিল অনুযায়ী তার নামে পুরো জমি আরএস ও বিএস পর্চা হয়।এ বিষয়টা সংশোধনের জন্য আদালতে একটি দেওয়ানী মামলা চলমান রয়েছে। ২০২৫ইং সালের দিকে হানিফ হঠাৎ করে একলাস মোল্লা, ফারুক দেওয়ান সহ অজ্ঞাতনামা অনেক লোকজন নিয়ে আমার জমি দখলের চেষ্টা করে। জমির সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফলের গাছ কেটে ফেলে এবং নির্মাণ সামগ্রী পাথর লুটপাট করে। খবর পেয়ে আমি বাধা দিতে গেলে হানিফ তার লোকজন নিয়ে আমার উপর অতর্কিত হামলা চালায়। সেই সময়ে আমি বাদী হয়ে আদালতে একটি সিআর মামলা করি যা চলমান। মামলা পরবর্তী সময়ে হানিফ একাধিকবার আমার জমির সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে এবং নির্মাণ সামগ্রী লুটপাট করে। এবিষয়ে সাভার থানায় গত ০৮/০৫/২০২৬ইং ও১৮/০৭/২০২৬ইং তারিখে অভিযোগ পত্র দায়ের করি।আসামি হানিফ ও তার লোকজন সব সময় আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে এবং যেকোনো সময় আমার দখলে থাকা জমি জবরদখল করার পায়তারা করছে। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমাদের মধ্যে চলমান মামলায় যদি হানিফ উক্ত জায়গা পাওনা হয়, আমি উক্ত জায়গা ছেড়ে দিব। আমার বাবা নাই, কোন ভাইও নাই, আমার ছেলে- মেয়েরা ছোট ছোট। তাই আমাকে একলা পেয়ে হানিফ আমার উপরে এই জুলুম অত্যাচার করছে। আমি এই জুলুমের বিচার চাই।আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে হানিফ নামের জুলুমবাজের কাছ থেকে আমাকে এবং আমার পরিবারকে মুক্ত করার বিনিত আহ্বান জানাচ্ছি।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মো: কামরুল জানায়, ছোটবেলা থেকে আমরা দেখতেছি এই জমি ফারুকদের।তারা গাছপালা রোপণ করে ও শাকসবজি বপন করে খায়।পরবর্তীতে বিভিন্ন লোকজন এসে এখানে গাছপালা কেটে মালামাল লুট করে এই জমিটি দখল করতে চেষ্টা করে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মোঃ লাট মিয়া জানায়, দীর্ঘদিন ফারুকরা এই জমির ভোগদগল আছে। লাস্ট কিছুদিন ধরে হানিফ সহ বিভিন্ন লোকজন এসে এখানকার সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে ও লুটপাট চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শী আনোয়ার হোসেন জানান,এই জায়গা ফারুকের বাপ দাদাদের। প্রথম ঘটনার দিন এই জমির সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে গাছ-পালা কাটার সময়ে অন্যান্যদের সাথে আমিও ঘটনাস্থানে উপস্থিত হই। ঘটনা স্থলে ফারুক উপস্থিত হলে হানিফ সহ অন্যন্যরা ফারুককে মারধর করে এবং আমি সহ অন্যান্যরা মিলে ফারুককে হসপিটালে নিয়ে যাই। পরবর্তীতে এই ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে শুনেছি। ইদানিং আরো দুইবার ওই লোকেরা ফারুকের জমিতে সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে। এ বিষয়ে থানায় আরো দু'টি অভিযোগ হয়েছে বলে শুনেছি।
এ বিষয়ে কাউন্দিয়া পুলিশ ফাড়ি ইনচার্জ আব্দুর রহিম বলেন, এদের উভয়পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে থানায় একাধিকবার অভিযোগ করেছেন। পূর্বেও এ বিষয়ে আদালতে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। আদালত থেকে এই জায়গার বিষয়ে কোন পর্যবেক্ষণ নাই।সেজন্য জমি-জমার বিষয়ে আমরা তেমন কিছু করতে পারছি না। তবে, আইন-শৃঙ্খলা যাতে অবনতি না ঘটে সে বিষয়ে আমরা সজাগ দৃষ্টি রাখছি।
অভিযুক্ত মোঃ হানিফ মুঠো ফোনে ফারুককে মারদোর, বাড়ি ভাঙচুর ও মালামাল লুটের কথা অস্বীকার করে এই প্রতিবেদক কে জানান,১৯৫৭ সাল থেকে এই জমি ক্রয় সূত্র আমিই মালিক। আমাদের নামে সব দলিল-পর্চা রয়েছে। উল্টো ফারুক এই জমি জবর দখল করে আছে এবং তার বিরুদ্ধে আমরাও একাধিকবার থানায় অভিযোগ করেছি।
এ বিষয়ে একলাস মোল্লার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, হানিফ-ফারুক আপন মামাতো-ফুপাতো ভাই। তাদের মধ্যে জমিজমা নিয়ে কি ঝামেলা আছে তা আমার বোধগম্য নয়।আমি টাকা দিয়ে জমি কিনেছি আমি আমার জমি বুঝে পেতে চাই। হানিফ বা ফারুক কেউই আমর শত্রু না।আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আইন লংঘন হয় এমন কোন কিছু করবো না এবং আমি কোন ঝামেলায়ও জড়াতে চাই না।আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ, আমার এই ঝামেলাটা অচিরেই যেন সমাধান করে দেন।
আমার বার্তা/এমই
