মাদকের চালান ছেড়ে ১০ লাখ টাকা ঘুস, চার পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার
প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০:২৯ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

অভিযান চালিয়ে প্রাইভেটকারসহ মাদকের বড় চালান জব্দ করার পর ১০ লাখ টাকা ঘুসের বিনিময়ে তা ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা থানার চার পুলিশ কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার (ক্লোজ) করা হয়েছে। তাদের পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পর জেলা পুলিশ এই সিদ্ধান্ত নেয়।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান সরকার।
প্রত্যাহার হওয়া কর্মকর্তারা হলেন, উপ-পরিদর্শক (এসআই) তুহিন, উপ-পরিদর্শক (এসআই) রিমন মিয়া, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল হাকিম, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) লুৎফর রহমান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ জুলাই দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাতীবান্ধা উপজেলার বোর্ডের হাট বাজার এলাকায় এক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীর বাড়িতে ওই চার কর্মকর্তা যৌথ অভিযান চালান। অভিযানে একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকার, একটি মোটরসাইকেল ও বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়।
তবে জব্দকৃত আলামত ও আসামিকে থানায় না নিয়ে কৌশল বদলে ঘটনাস্থল থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে ভেলাগুড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে নিয়ে যান তারা। সেখানে দরকষাকষির এক পর্যায়ে ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে মাদকের চালানসহ আসামিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরের সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরার ফুটেজে পুলিশ কর্মকর্তাদের এই বৈঠকের দৃশ্য ছড়িয়ে পড়লে পুরো উপজেলায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ রয়েছে, এই চার কর্মকর্তার দলটিই গত ১৮ জুলাই উপজেলার ভবানীপুর গ্রামে একইভাবে অপর একটি বিতর্কিত অভিযানে গেলে স্থানীয় গ্রামবাসীর তোপের মুখে পড়ে এবং অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে।
পরপর দুটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিতর্কিত ঘটনার পর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখা শুরু হয়। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে চার কর্মকর্তাকে হাতীবান্ধা থানা থেকে প্রত্যাহার করে লালমনিরহাট পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। এছাড়া ঘটনাটির বিস্তারিত অনুসন্ধানে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান সরকার জানান, চার পুলিশ কর্মকর্তাকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে এটা সত্য। জেলা পুলিশের গঠন করা তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর সত্যতা মিললে বিভাগীয় ও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে কর্তৃপক্ষ।
