সমুদ্রসীমার পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে আরও উচ্চমাত্রার উদ্যোগ প্রয়োজন
প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও অংশীদারিত্বে আরও উচ্চমাত্রার উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন মহেশখালী ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (মিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ।
তিনি আরও বলেন, মহেশখালীকেন্দ্রিক উপকূলীয় উন্নয়ন ও কৌশলগত অবকাঠামো বাস্তবায়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা হিসেবে মিডা—সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যৌথভাবে সরকারের ২০টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে মৎস্য ও সামুদ্রিক বিষয়ক অগ্রাধিকার নির্ধারণে কাজ করবে।
এই সহযোগিতার আওতায় জাপানের ব্লু ইকোনমি মডেল ও উমিগিও পদ্ধতি মহেশখালী এলাকায় প্রয়োগের সম্ভাব্যতা বিশ্লেষণ, মৎস্য ও উপকূলীয় পর্যটন খাতে বেসলাইন স্টাডি, জেটি ও কোল্ড-চেইনসহ অবকাঠামো উন্নয়ন, গভীর সমুদ্রে মাছ ধরা, সামুদ্রিক খামার, সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সি–সেফটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি হস্তান্তর অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে টেকসই ব্লু ইকোনমি উন্নয়নের লক্ষ্যে ঢাকায় আয়োজিত দুই দিনব্যাপী উচ্চপর্যায়ের আঞ্চলিক সংলাপে এসব কথা বলেন চৌধুরী আশিক চৌধুরী। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এই সংলাপ শুরু হয়। নর্থইস্ট ইন্ডিয়ান ওশান রিজিওনাল ডায়লগ অন সাসটেইনেবল ব্লু ইকোনমি, কানেক্টিভিট অ্যান্ড রিজিলিয়েন্স ফর স্মল আইল্যান্ড ডেভেলপিং স্টেটস (এসআইডিএস) শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় এ সংলাপ আয়োজিত হয়েছে।
সংলাপটি যৌথভাবে আয়োজন করেছে জাপানের সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশন, মহেশখালী ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (মিডা) এবং পিস অ্যান্ড পলিসি সল্যুশনস। এতে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, ভারতের আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, বিশেষজ্ঞ ও উন্নয়ন সহযোগীরা অংশ নিয়েছেন।
আজ মঙ্গল ও বুধবার (১৩ ও ১৪ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিতব্য এই সংলাপে ব্লু ইকোনমি কৌশল, বন্দর ও শিপিং সংযোগ, অর্থায়ন ও প্রযুক্তি স্থানান্তর, জলবায়ু অভিযোজন, দুর্যোগ প্রস্তুতি, বিজ্ঞান–নীতি সংযোগ, টেকসই মৎস্য ও পর্যটন খাত নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হবে।
পাশাপাশি আঞ্চলিক সহযোগিতার একটি রোডম্যাপ তৈরির লক্ষ্যে ওয়ার্কিং গ্রুপ সেশন অনুষ্ঠিত হবে। সংলাপের আলোচনার ভিত্তিতে একটি আঞ্চলিক অবস্থানপত্র প্রণয়ন করা হবে, যা ‘ঢাকা স্টেটমেন্ট’ নামে পরিচিত হবে এবং ভবিষ্যতের আন্তঃআঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সংলাপে উপস্থাপন করা হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্যে ওশান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (ওপিআরআই) সভাপতি অধ্যাপক মিতসুতাকু মাকিনো বলেন, ‘গ্রেট মিডল বে’ নামে পরিচিত ভারত মহাসাগর ৩০ টিরও বেশি দেশ এবং প্রায় তিন বিলিয়ন মানুষকে সংযুক্ত করে। তাঁর ভাষায়, জাপানের জ্বালানি আমদানির প্রায় ৭৮ শতাংশ এই মহাসাগর দিয়ে আসে। তাই এটি শুধু একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডর নয়, বরং একটি যৌথ পরিসর, যেখানে দেশগুলোর ভাগ্য পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।
উদ্বোধনী অধিবেশনে আরও বক্তব্য দেন মালদ্বীপের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বাণিজ্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আবদুল্লাহ সিয়াজ, মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকারী ড. এমাদুল ইসলাম, কমোডর তানজিম ফারুক, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ এবং পিস অ্যান্ড পলিসি সল্যুশনসের উপদেষ্টা ড. মুগধো মাহজাব।
আমার বার্তা/এমই
