মার্চে ২০ হাজার কোটি টাকা ছাপিয়েছে সরকার: দাবি পিআরআইয়ের

প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:৪৬ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

মার্চ মাসে সরকার প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা নতুন করে তৈরি করে অর্থনীতি থেকে ঋণ নিয়েছে—এমন মন্তব্য করেছেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এর মূখ্য অর্থনীতিবিদ আশিকুর রহমান। তাঁর মতে, এই অর্থ সরাসরি কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নেওয়া হয়েছে, যা মূলত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন অর্থ বা নতুন ছাপানো টাকা হিসেবে বিবেচিত হয় এবং এর ফলে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়তে পারে।

রাজধানীর বনানীতে আয়োজিত এক অর্থনৈতিক পর্যালোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এই সেমিনারে দেশের বর্তমান আর্থিক ব্যবস্থার বিভিন্ন ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরা হয়।

প্রধান প্রবন্ধ উপস্থাপনের সময় আশিকুর রহমান বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরাসরি ঋণ নেওয়ার অর্থ হচ্ছে অর্থ সরবরাহ বাড়ানো, যা বাজারে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়ায়। তিনি সতর্ক করে বলেন, চলমান সংস্কার কার্যক্রমে শিথিলতা অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষ করে ব্যাংক খাতের সংস্কার প্রক্রিয়া থেমে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সঙ্গে চলমান কর্মসূচি নিয়ে অপ্রয়োজনীয় চাপ তৈরি করা ঠিক নয়। বরং প্রয়োজন অর্থনৈতিক সংস্কারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স, বাংলাদেশ-এর সভাপতি মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বর্তমানে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বিশেষ করে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ থাকায় ব্যবসায়ীরা নতুন বিনিয়োগে দ্বিধায় রয়েছেন। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বয় জরুরি বলে তিনি মত দেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন পিআরআই চেয়ারম্যান জাইদি সাত্তার। তিনি বলেন, জ্বালানি খাতের অস্থিরতা সরাসরি পণ্যমূল্যে প্রভাব ফেলছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের নানা সংকটের কারণে দেশের অর্থনীতিতেও চাপ তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে বড় ধরনের সংস্কার উদ্যোগ নেওয়ার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। সেমিনারে বক্তারা সামগ্রিকভাবে মত দেন, অর্থনীতির বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্বচ্ছ নীতি, শক্তিশালী আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং সংস্কারের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে জরুরি।


আমার বার্তা/এমই