এফবিসিসিআই–ইউএন ওচা বৈঠক: দুর্যোগে বেসরকারি খাতের ভূমিকা জোরদার

প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:৪২ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

বাংলাদেশে মানবিক ও দুর্যোগ সহায়তা কার্যক্রমে প্রাইভেট সেক্টর খাতের অবদান আরও কার্যকরভাবে সমন্বয় ও জোরদার করার লক্ষ্যে আজ ইউনাইটেড নেশনস হাউস, বাংলাদেশে জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় সংস্থা (ইউএন ওচা) -এর ফাইন্যান্সিং অ্যান্ড আউটরিচ ডিভিশনের পরিচালক মিস লিসা ডাউটেন এবং ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) -এর মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে উল্লেখ করা হয় যে, এশিয়ায় বাংলাদেশ ও মিয়ানমার ইউএন ওচা এর অগ্রাধিকারভুক্ত দেশ। ইউএন ওচা সেন্ট্রাল ইমার্জেন্সি রেসপন্স ফান্ড (সিইআরএফ), কান্ট্রি-বেইজড পুলড ফান্ড এবং হিউম্যানিটারিয়ান রেসপন্স প্ল্যান (এইচআরপি)-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক সমন্বয় কাঠামো পরিচালনার মাধ্যমে সময়োপযোগী, প্রয়োজনভিত্তিক ও নীতিনির্ভর মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করে আসছে।

বৈঠকে এফবিসিসিআই -এর “কানেক্টিং বিজনেস ইনিশিয়েটিভ (সিবিআই)”–এর ২২তম সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টিও প্রশংসিত হয়। ইউএন ওচা ও ইউএনডিপি’র যৌথ এই প্ল্যাটফর্মটি দুর্যোগের আগে, চলাকালীন ও পরবর্তী সময়ে বেসরকারি খাতের কৌশলগত সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করে।

আলোচনায় এফবিসিসিআই সদস্যদের চলমান দুর্যোগ মোকাবিলা ও সহনশীলতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম তুলে ধরা হয় এবং বেসরকারি খাত, সরকার ও জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কাঠামোর মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে লজিস্টিকস, সাপ্লাই চেইন, অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে আরও সমন্বিতভাবে ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এছাড়া এফবিসিসিআই ও ইউএন ওচা -এর মধ্যে কাঠামোবদ্ধ সহযোগিতার বিভিন্ন সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে রয়েছে মানবিক সমন্বয় ব্যবস্থার ওপর যৌথ প্রশিক্ষণ (যেমন: ক্লাস্টার সিস্টেম, হিউম্যানিটারিয়ান কান্ট্রি টিম, সমন্বয় প্রক্রিয়া ও নীতিমালা), প্রাইভেট সেক্টর দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি ভিত্তিক জরুরি সমন্বয় মডেল পাইলট উদ্যোগ (দ্রুত সাড়া প্রদান, সম্পদ সংস্থান ও ব্যবসা ধারাবাহিকতা), এবং এফবিসিসিআই সেফটি কাউন্সিলকে জাতীয় ও বৈশ্বিক সমন্বয় প্ল্যাটফর্মের সাথে সংযুক্তকরণ।

বৈঠকে লিঙ্গ-সংবেদনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক মানবিক কার্যক্রমের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়, বিশেষ করে নারী-নেতৃত্বাধীন উদ্যোগ পুনরুদ্ধার, এমএসএমই খাতের সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা সামগ্রী নিশ্চিতকরণে প্রাইভেট সেক্টর এর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি এফবিসিসিআই সেফটি কাউন্সিলের অধীনে একটি প্রাইভেট সেক্টর খাতভিত্তিক মানবিক সমন্বয় প্ল্যাটফর্ম গঠনের সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হয়, যা প্রাথমিক সমন্বয় কার্যক্রম ও যৌথ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।

বৈঠকে ইউএন ওচার পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন মিস লিসা ডাউটেন, মিস সঞ্জনা কাজী, মিস ওয়েন্ডি কিউ, মি. ড্যানিয়েল গিলম্যান এবং মিস নিশা মাঞ্জুরান।

বেসরকারি খাতের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সাবেক পরিচালক মিস নাসরিন ফাতেমা আউয়াল, মো. আব্দুল হক, এমসিসিআই -এর সভাপতি কামরান টি. রহমান, প্রাণ আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী, সিএনজি মেশিনারিজ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. জাকির হোসেন নয়ন, এফবিসিসিআই -এর মহাসচিব মো. আলমগীর, এফবিসিসিআই -এর ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স বিভাগের প্রধান মো. জাফর ইকবাল এনডিসি, এফবিসিসিআই সেইফটি কাউন্সিলের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবু নাঈম মো. শহিদুল্লাহ প্রমুখ।

বৈঠকের শেষে উভয় পক্ষ এই মর্মে একমত হন যে, এসব উদ্যোগ একটি কাঠামোবদ্ধ অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার বাস্তব সুযোগ সৃষ্টি করে, যার মাধ্যমে এফবিসিসিআই—বিশেষত এর সেফটি কাউন্সিল—ইউএন ওচার মানবিক সমন্বয় কার্যক্রমকে পরিপূরকভাবে সহায়তা করতে পারবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে একটি কার্যকর ও সম্প্রসারণযোগ্য বেসরকারি খাত–মানবিক অংশীদারিত্ব মডেল গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়, যা বৈশ্বিক পর্যায়েও একটি উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।


আমার বার্তা/এমই