বাজেট ঘাটতি পূরণে ব্যাংক ঋণ অর্থনীতির জন্য আত্মঘাতী: ফাহমিদা খাতুন

প্রকাশ : ০২ মে ২০২৬, ১৬:৫৫ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

বাজেটে নীতিগত দিক নির্দেশনা থাকতে হবে বলে জানিয়েছেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেছেন, যেহেতু আমাদের সম্পদ সঞ্চালন কম, সে কারণে ব্যয় সাশ্রয়ী বাজেট হতে হবে। বাজেট ঘাটতি পূরণে সরকার ব্যাংকিং খাত থেকে প্রচুর পরিমাণে ঋণ নেয়। শুধুমাত্র বাণিজ্যিক ব্যাংক নয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকেও সরকার ঋণ নেয়, যা অর্থনীতির জন্য আত্মঘাতী। বাজেটে ঘাটতি পূরণে আন্তর্জাতিক উৎসগুলোর প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে।

শনিবার (২ মে) রাজধানীর এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নয়, বৈশ্বিক পরিস্থিতি জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার প্রধান কারণ’ শীর্ষক ছায়া সংসদে এ কথা বলেন তিনি।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক অস্থির পরিস্থিতিতে সাধারণ জনগণকে স্বস্তি দিতে আমদানি করা পণ্যের ওপর ভ্যাট-ট্যাক্স সাময়িক তুলে দেওয়া যেতে পারে। তবে বাজার ব্যবস্থাপনা দুর্বল থাকলে এর ফল পুরোপুরি পাওয়া যাবে না। রোজার মাসে আমদানি করা পণ্যের ওপর ভ্যাট-ট্যাক্স কমানোতে ভোক্তারা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিলো। বর্তমান সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড দেওয়া আশাব্যঞ্জক পদক্ষেপ। তবে এর সুফল পেতে উপকারভোগী নির্বাচন ও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। অতীতে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে অনেক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। নিম্নবিত্তের জীবনকে সহায়তা করতে ভর্তুকি দেওয়া প্রয়োজন। তবে ভর্তুকি লক্ষ্যভিত্তিক হতে হবে। কৃষি, সেচ ও গণপরিবহনের মতো খাতগুলোতে ভর্তুকিতে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, দেশের অর্থনীতি একটা কঠিন সময় পার করছে। করোনা মহামারির ধাক্কা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও বিগত শাসনামলের অর্থনীতির ক্ষত, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পরিস্থিতি, জ্বালানি সংকট, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগের নিম্নহার, কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা, উচ্চ ঋণখেলাপিসহ বৈদেশিক ঋণের চাপ মাথায় নিয়ে বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ বিশ্বের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে ওলট-পালট করে দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম ও দেশে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় আমাদের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে। বৈশ্বিক মন্দা পরিস্থিতিতে সরকারের ওপর অহেতুক চাপ সৃষ্টি না করে কীভাবে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সহনশীল রাখা যায় তার জন্য রাজনৈতিক ঐক্য দরকার। এর জন্য সরকার ও বিরোধীদল কেউ কাউকে ব্যর্থ করার চেষ্টা না করে অতীত ইতিহাস থেকে অভিজ্ঞতা নিয়ে দেশ পরিচালনায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় ঢাকা কলেজের বিতার্কিকদের পরাজিত করে কবি নজরুল সরকারি কলেজের বিতার্কিকরা বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, ড. এস এম মোর্শেদ, ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী তুহিন, সাংবাদিক আবুল কাশেম ও সাংবাদিক মাইদুর রহমান রুবেল। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র দেওয়া হয়।


আমার বার্তা/এমই