কালো টাকা সাদা করতে নিঃশর্ত ক্ষমা অসাংবিধানিক ও দুর্নীতিসহায়ক: টিআইবি

প্রকাশ : ০৪ জুন ২০২৬, ১৮:৪৩ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

কোনো ধরনের প্রশ্ন করার সুযোগ না রেখে ‘নিঃশর্ত ক্ষমা’ ঘোষণার মাধ্যমে সরকার আসন্ন ২০২৬-২০২৭ বাজেটে কালো টাকা সাদা করার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত সংবাদে গভীর হতাশা ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) এক বিবৃতিতে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড.ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “আবাসন খাত ব্যবসায় স্থবিরতা দূর, শিল্পখাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার অজুহাতে এ জাতীয় দুর্নীতিসহায়ক সুযোগ প্রদান সরকারের জন্য আত্মঘাতীমূলক। যা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দুর্নীতি ও অনিয়মকে স্বাভাবিকতায় পরিণত করারই নামান্তর। এই সুযোগ চিরতরে বন্ধ করতে হবে।”

একইসঙ্গে, ‘সাধারণ ক্ষমা’ ঘোষণার মাধ্যমে পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে সরকারের গৃহীত পরিকল্পনার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।

“স্বাধীনতার পর প্রায় প্রতিটি সরকার কোনো না কোনো পন্থা অবলম্বন করে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার নামে সংবিধানের ২০(২) অনুচ্ছেদ পরিপন্থী এই বিধান অব্যাহত রেখেছে। এক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ হয় বিগত কর্তৃত্ববাদী শাসনামলে। কখনও ‘বিনাপ্রশ্নে’ আবার কখনও বা নিয়মিত করহারের চেয়ে তুলনামূলক কমহারে দুর্নীতিবাজদের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক এই অনৈতিক চর্চাকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ করা হয়েছিলো। তখনও একইভাবে এই বৈষম্যমূলক বিধান বহাল রাখার পেছনে স্বল্পমেয়াদি আর্থিক লাভ-ক্ষতির খোঁড়া যুক্তি দেওয়া হতো, কিন্তু প্রকৃত অর্থে এর ফলে দেশে ‘করফাঁকি’ এবং সৎ ও বৈধ আয়ের ব্যক্তি করদাতাকে নিরুৎসাহিত করার সংস্কৃতিটি ক্রমান্বয়ে দৃঢ়তর হয়েছে।”

তিনি আরো বলেন, “কালো টাকা সাদা করার বিধান জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিভিন্ন ধাপে বন্ধ করলেও, বর্তমান সরকারের সেটি পুনরায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা এক ধাপ এগিয়ে দুই ধাপ পিছিয়ে পড়ার মতো। কারণ, কালো টাকা সাদা করার সুযোগ প্রদান রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক বৈধতা দেওয়ারই শামিল,যা বর্তমান সরকারকে বিতর্কিত করার সুযোগ সৃষ্টি করছে। ”

জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ এর ৬৭ ধারায় ব্যক্তির অনুপার্জিত আয় ভোগ করার সুযোগ বন্ধের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার পরিপূর্ণ বাস্তবায়নে বিএনপিসহ সকল রাজনৈতিক দল ও জোট সর্বসম্মতভাবে অঙ্গীকার করেছে উল্লেখ করে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কারসহ দুর্নীতির সাথে কোনো আপস করবে না”- মর্মে অঙ্গীকার করেছে। অথচ দায়মুক্তি প্রদানের মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখা হবে। তা ছাড়া দুদক সংস্কার প্রতিবেদনে (সুপারিশ-৩) কালো টাকা সাদা করার সুযোগ চিরতরে বন্ধ করার সুপারিশ করা হয়েছে। যার প্রতিও বিএনপিসহ সকল রাজনৈতিক দল একমত হয়েছিল বলে জানান ড. ইফতেখারুজ্জামান।


আমার বার্তা/এমই