আগামী দুই বছর কঠিন সময় যাবে, সবাইকে কষ্ট করতে হবে: অর্থমন্ত্রী
প্রকাশ : ২২ জুন ২০২৬, ১৯:৩৭ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

দেশের অর্থনীতি নিয়ে সতর্ক করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, অর্থনীতি নানামুখী চাপে থাকায় এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিস্থিতিরও তেমন উন্নতি না মেলায় আগামী দুই বছর সময় কঠিন যাবে।
সোমবার (২২ জুন) ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের সহযোগিতায় সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত প্রস্তাবিত বাজেট আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।
আমির খসরু বলেন, ‘দুই বছর সময় কঠিন যাবে, আমি আগেভাগে বলছি। দুটি বছর কষ্ট করতে হবে সবাই মিলে। আর জনগণের লাইফ যেটা (স্বাভাবিক রাখার) ওটা আমরা করব নীতির ভিত্তিতে। সহায়তার ভিত্তিতে। যতটুকু সীমিত আমাদের সম্পদ ওটা দিয়েই আমরা করব। ওইটা বলছি না। কিন্তু এটা (অর্থনীতি) ঘুরে দাঁড়াতে, এই যে ভঙ্গুর থেকে স্থিতিশীলতা, সেটার জন্য দুই বছর লাগবে।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, “আমি যদি বলি কালকে সকালে সব সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে, এই কমিটমেন্টটা আমি দিতে চাইব না।
এটার জন্য দুই বছর সময় প্রয়োজন। এ ভঙ্গুর অর্থনীতি, খারাপ অর্থনীতি থেকে স্থিতিশীল করতে দুই বছর লাগবে। তৃতীয় বছরে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে ইনশাআল্লাহ। ঘুরে দাঁড়াবে এবং চতুর্থ ও পঞ্চম বছরে অর্থনীতি হবে ‘প্রসপারিটি অব বাংলাদেশ’। চতুর্থ ও পঞ্চম বছর হবে ‘প্রসপারিটি ফর বাংলাদেশ’। চতুর্থ ও পঞ্চম বছর হচ্ছে সমৃদ্ধির বাংলাদেশ—আমরা দেখব।”
পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াতেও দুই বছর প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ক্যাপিটাল মার্কেট, অ্যাগেইন আমি তো বলছি দুই বছরের কুশন দরকার। আপনি দেখবেন ইনশাআল্লাহ সব কিছু স্বাভাবিক হয়ে যাবে। দুই বছরের মধ্যে বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ঘুরে দাঁড়াবে। আমাদের বিশাল একটা অপরচুনিটি ক্রিয়েট হবে ক্যাপিটাল মার্কেটে, বিশাল অপরচুনিটি। সবার জন্য।’
কিভাবে হবে ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘এ জন্য আমরা ক্যাপিটাল মার্কেটের প্রথম আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে আস্থাটা ফিরিয়ে আনা। এ জন্য আমরা একটা কমিশন করেছি, যারা একদম ইন্ডিপেন্ডেন্ট, নন-পলিটিক্যাল এবং পুরোপুরি পেশাদার লোক। সুতরাং তারা সব আইন চেঞ্জ করছেন, যাতে আমাদের ইনভেস্টররা সিকিউর থাকেন। যারা তালিকাভুক্ত হবে কম্পানিগুলো, তারা যাতে আস্থা পায় যে এই ক্যাপিটাল মার্কেটে তার শেয়ারটা প্রপারলি লেনদেন হবে এবং সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে ইন্টারন্যাশনাল যারা ইনভেস্টর আছেন তাদের যাতে বাংলাদেশের ক্যাপিটাল মার্কেটের ওপর আস্থা থাকে।’
মন্ত্রী আরো বলেন, ‘ডিরেগুলেশন ইজ আ বিগ মুভ। আমি জানি, এটা খুব কঠিন। অনেক বাধাগ্রস্ত আমি হয়ে গেছি অলরেডি। ইতিমধ্যে করার (ঘোষণা) সময়ই বাধাগ্রস্ত হয়েছি। এটা এক্সিকিউশন করতে গেলে আরো বাধাগ্রস্ত হবো আমি জানি, কিন্তু যত কঠিন ডিসিশন নিতে হয়, আমি নিতে প্রস্তুত আছি।’
তিনি বলেন, “এই ডিরেগুলেশনের পথে যদি কেউ বাধাগ্রস্ত হয়, তাদের আমরা বেরিয়ে যাওয়ার পথ দেখিয়ে দেব। ওই যে দরজা আছে পেছনে ওদিক দিয়ে বেরিয়ে যান। কোনো দরকার নাই (তাদের)। দেশ হিসেবে আমরা অনেক ‘সাফার’ করেছি। বাংলাদেশের মানুষের এখন চায় একটা সত্যিকার মুক্ত জীবন যাপন করতে।”
বাজেট বক্তৃতায় সাড়ে চার পৃষ্ঠা এ নিয়ে কথা বলেন অর্থমন্ত্রী; সেখানে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অনুমোদন ও লাইসেন্স নিতে যেসব বাধার শিকার হতে আমলাতান্ত্রিক কারণে সেসবের অনেক কিছু কমিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয় সরকারের তরফে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘যদি সঞ্চয় না বাড়ে, সম্পদ তৈরি না হয়, তাইলে অর্থনীতির সুদিন ফিরবে না। কারণ তারা (সীমিত আয়ের মানুষ) তো ভোক্তাও বটে। তো সেই কনটেক্সটে আমার কাছে এইবারের যে আয়করের হারের কাঠামো যেটা সরকার দিয়েছে, তা কিছুটা রিগ্রেসিভ মনে হয়েছে। কারণ এর আগে ৫ শতাংশ হার একটা ছিল। আমরা যারা ঢাকায় থাকি অনেকের সীমিত আয় আছে। শহরের অন্যান্য প্রান্তেও অনেকে থাকে। আমার কাছে মনে হয় শতাংশ হার এটি রাখা উচিত ছিল সরকারের।’
আমার বার্তা/এমই
