সরকার আইএমএফ থেকে শূন্য হাতে ফেরেনি: সংসদে অর্থমন্ত্রী
প্রকাশ : ২৯ জুন ২০২৬, ১৮:৩৮ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বাতা অনলাইন:

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সরকার আইএমএফ থেকে শূন্য হাতে ফেরেনি। বরং ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে গৃহীত প্রোগ্রামের কিছু কিছু শর্ত দেশ ও জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য মনে না হওয়ায় আমরা সেসব প্রোগ্রাম থেকে নিজেরাই বেরিয়ে এসেছি। আমরা দেশ ও জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় রেখে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনাক্রমে নতুন প্রোগ্রাম গ্রহণ করবো।
সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর দেওয়া সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি মালয়েশিয়া এবং চীন সফর করে এসেছেন। আমি মনে করি তার এ সফর দেশে বিনিয়োগ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও ম্যানুফেকচারিং দক্ষতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। এ ধরনের পার্টনারশিপ সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমাদের আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।
তিনি বলেন, আমাদের সরকারের অন্যতম প্রধান নীতি সংস্কার হচ্ছে বিনিয়ন্ত্রণকরণ। এ নীতির মূল লক্ষ্য হচ্ছে- অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক জটিলতা দূর করা, ব্যবসার ব্যয় কমানো এবং রাষ্ট্রকে অনুমোদননির্ভর কাঠামো থেকে সেবানির্ভর কাঠামোয় রূপান্তর করা। আমাদের লক্ষ্য হলো- রাষ্ট্র যেন বিনিয়োগের প্রতিবন্ধক নয়, বরং সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করে।
তিনি আরও বলেন, আমরা দেশীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি। সে কারণে আমরা শিল্পায়ন, রপ্তানিমুখী উৎপাদন, প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণ, প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, উদ্ভাবনী উদ্যোক্তা তৈরি এবং ক্রিয়েটিভ অর্থনীতির সম্প্রসারণে সমন্বিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, প্রতিটি সেবা প্রদানের সময়সীমা সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে, যেন উদ্যোক্তাদের অনিশ্চয়তার মধ্যে অপেক্ষা করতে না হয়। দায়িত্ব নেওয়ার পর আমরা উপলব্ধি করি যে জ্বালানি নিরাপত্তা ঝুঁকি ও মানসম্পন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের অনিশ্চয়তা আমাদের শিল্প উৎপাদনসহ অর্থনীতির সব ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করছে।
আমীর খসরু বলেন, এ অবস্থা থেকে উত্তরণে আমরা স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি—যার অন্যতম হলো জ্বালানির উৎসসমূহকে বহুমুখীকরণ, এলএনজি টার্মিনালের সংখ্যা বৃদ্ধি, বাপেক্সকে শক্তিশালীকরণ, দেশীয় গ্যাস উত্তোলন জোরদারে আন্তর্জাতিক টেন্ডার আহ্বান, তেল পরিশোধনে সক্ষমতা বাড়াতে দ্বিতীয় ইস্টার্ন রিফাইনারি স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ, ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এই উদ্যোগসমূহ বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট সময়ের প্রয়োজন হয়। তাই, আমরা জনগণকে একটু ধৈর্যশীল হওয়ার জন্য অনুরোধ করছি।
আমার বার্তা/এমই
