বিশ্ববাজারে কমল স্বর্ণের দাম
প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০১ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফনে মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ চলতি সপ্তাহের বৈঠকে সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন প্রত্যাশা জোরালো হওয়ায় কমেছে স্বর্ণের দাম।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় ৯টা ৩০ মিনিটে স্পট স্বর্ণের দাম ০ দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৩৪ দশমিক ৩১ ডলারে নেমেছে। এর আগে শুক্রবার টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো সাপ্তাহিক দরপতন হয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার ০ দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৭৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, স্বর্ণের জন্য বর্তমান বাজার পরিস্থিতি অনুকূল নয়। জ্বালানির দাম বাড়ার পাশাপাশি ফেড ও জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈঠকের আগে সুদের হার বাড়ার প্রত্যাশা বেড়ে যাওয়ায় স্বর্ণের ওপর মুনাফার হারের চাপ তৈরি হচ্ছে।
তবে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি ও মুদ্রানীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় স্বর্ণের দাম কমলে আবারও ক্রেতাদের আগ্রহ দেখা যেতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
গত সপ্তাহে প্রকাশিত তথ্যেও যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। আগস্টে দেশটির ভোক্তা মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির মৌলিক সূচকও চার মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি পেয়েছে।
সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ও বুধবার অনুষ্ঠেয় ফেডের নীতিনির্ধারণী বৈঠকে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা এখন প্রায় ৮৬ দশমিক ৫ শতাংশ। মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের আগে এই সম্ভাবনা ছিল প্রায় ৬৭ শতাংশ।
জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকও শুক্রবার সুদের হার বাড়াতে পারে বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। স্থায়ী মূল্যস্ফীতি ও অর্থনীতির স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার লক্ষণ না থাকায় বিশ্বের প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর আরও সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা হিসেবে সোনাকে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে সুদের হার বাড়লে কোনো সুদ বা মুনাফা দেয় না—এমন সোনায় বিনিয়োগের আকর্ষণ কমে যায়।
এদিকে সোমবার তেলের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে। সৌদি আরবে হুতিদের নতুন হামলা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজে ইরানের হামলার কারণে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। এর সঙ্গে সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন বন্ধ থাকায় বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা জোরালো হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাতেও ধাক্কা লেগেছে। ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে নির্ধারিত একটি বৈঠক পিছিয়ে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট রুপার দাম ০ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৪ দশমিক ০২ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম প্রায় অপরিবর্তিত থেকে ১ হাজার ৭৯৬ দশমিক ৯০ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম সামান্য পরিবর্তনে ১ হাজার ২৯৮ দশমিক ৮০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
