নবীজির জীবনাদর্শের চেতনা সবসময় জাগ্রত রাখতে হবে : জবি উপাচার্য 

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:২৫ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্‌দীন বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ সমগ্র মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম অনুসরণীয় আদর্শ। তিনি বলেন, ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত মহানবী (সা.)-এর জীবন, কর্ম ও আদর্শ সম্পর্কে জানা এবং তা বাস্তব জীবনে অনুসরণ করা।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সভাকক্ষে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত কেরাত, হামদ, নাতে রাসুল ও রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের বিশেষ আর্থিক সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননার অর্থ তুলে দেওয়া হয়।

উপাচার্য বলেন, প্রকৃত মুমিনের অন্তরে মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা এবং তাঁর জীবনাদর্শের চেতনা সবসময় জাগ্রত রাখতে হবে। বাংলাদেশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হওয়ায় মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ নিয়ে আলোচনা ও চর্চার বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে।

তিনি জানান, আগামী বছর থেকে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদ্যাপনের প্রস্তুতি এক মাস আগে থেকেই নেওয়া হবে। আরও বৃহৎ পরিসরে অনুষ্ঠান আয়োজনের পাশাপাশি প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কারের অর্থ আগেই ঘোষণা করা হবে। শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে আর্থিক সম্মাননা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ায় ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়ার ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী। অনলাইনে যুক্ত ছিলেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর একান্ত সচিব (পিএস) ও যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ মাহবুব আলম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ কমিটির সভাপতি, সমাজকর্ম বিভাগের চেয়ারম্যান ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসান।

ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত। মন্ত্রীর ঘোষিত আর্থিক সম্মাননার অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছানোর পর বিজয়ীদের হাতে তা তুলে দিতে পেরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আনন্দিত।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী বলেন, ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের সম্মানিত করা অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও এ ধরনের আয়োজন করা উচিত।

মোহাম্মদ মাহবুব আলম বলেন, ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করতে পেরে তাঁরা আনন্দিত। শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ), এমপির শারীরিক সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।

এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ), এমপি বিজয়ী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে আর্থিক সম্মাননা দেওয়ার ঘোষণা দেন।

অনুষ্ঠানে কেরাত, হামদ, নাতে রাসুল ও রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীরা তাঁদের অনুভূতি প্রকাশ করেন। রচনা প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থীকে ৫০ হাজার টাকা এবং অন্য ১১ জন বিজয়ীকে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠান শেষে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রীর দ্রুত সুস্থতা ও সার্বিক মঙ্গল কামনা করা হয়।