শুটিংয়ের আগে মাকে সাজিয়ে দিতেন সুচিত্রা সেনের কন্যা
প্রকাশ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪৩ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন

বাংলা চলচ্চিত্রের মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের ৯৬তম জন্মদিনে উঠে এসেছে মা-মেয়ের এক অনন্য সম্পর্কের গল্প। সিনেমার পর্দায় যাকে দেখে মুগ্ধ হতো কোটি মানুষ, পর্দার আড়ালে সেই মানুষটিকে সাজিয়ে তোলার অন্যতম কারিগর ছিলেন স্বয়ং তার কন্যা মুনমুন সেন। জন্মদিনের স্মৃতিচারণে মুনমুন সেন জানিয়েছেন, কীভাবে ছোটবেলা থেকেই মায়ের রূপসজ্জা ও পোশাকের বিষয়ে জড়িয়ে ছিলেন তিনি।
নায়িকার এবারের জন্মদিন উপলক্ষ্যে ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজারে উঠে আসে এসব কথা। মুনমুন সেনের স্মৃতিচারণ থেকে জানা যায়, ‘ফরিয়াদ’ সিনেমায় সুচিত্রা সেনের পরা সেই বিখ্যাত গাউনটি ছিল তার নিজের ডিজাইন করা। শুধু তাই নয়, কালজয়ী ‘দেবী চৌধুরাণী’ ছবির ব্লাউজের নকশাও করেছিলেন তিনি।
এমনকি মা যখন বিয়ের কনের চরিত্রে অভিনয় করতেন, তখন সুচিত্রা সেন নিজেই চাইতেন তার কপালের চন্দন যেন মেয়ে পরিয়ে দেয়। মায়ের কোলের ওপর বসে সেই ছোট্ট হাতেই সুচিত্রা সেনের কপালে চন্দন এঁকে দিতেন কিশোরী মুনমুন।
পেশাদার জীবনের ব্যস্ততার মাঝেও সুচিত্রা সেন ছিলেন পুরোদস্তুর একজন ‘সংসারি মা’। মুনমুন সেন স্মৃতিচারণ করে বলেন, শুটিং শেষে মা যখন বাড়ি ফিরতেন, তখন ঘরভর্তি চালগুঁড়োর আলপনা দেখে মা ভীষণ খুশি হতেন। খুব ছোট আমি তখন। বাইরের স্কুলে পড়ি। যখন বাড়ি আসতাম, আমার নানা কাজে উৎসাহ দিতেন মা। সেটা পিয়ানো বাজানো হোক, আলপনা দেওয়া, বা ছবি আঁকা।
১৯৩১ সালের এই দিনে পাবনায় জন্মগ্রহণ করা রমা দাশগুপ্ত থেকে সুচিত্রা সেন হয়ে ওঠার এই দীর্ঘ পথচলায় কন্যা মুনমুন সেন ছিলেন তার সবচেয়ে কাছের ছায়া। মহানায়ক উত্তম কুমারের সঙ্গে জুটি বেঁধে বাংলা চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগ উপহার দেওয়া এই কিংবদন্তি ১৯৭৮ সালে স্বেচ্ছায় অবসর নিয়ে লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যান।
এরপর ২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি কলকাতার বেল ভিউ হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৮২ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়। কিন্তু এখনও তিনি অমর ভক্তদের হৃদয়ে। তাই আজ তার জন্মদিনে দুই বাংলার অগণিত ভক্ত ও অনুরাগী তাকে বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে।
