সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর আমন্ত্রণে শিল্পকলায় পদ্মাপাড়ের শিল্পীদের মিলনমেলা
প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০২৬, ১২:০২ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

নানা ব্যস্ততাকে কাটিয়ে একই ছাদের নিচে এক হয়ে উঠেছিল পদ্মাপাড়ের জেলা রাজবাড়ীর একঝাঁক কৃতিসন্তান তথা কালচারাল জগতের প্রিয় মুখগুলো। গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা প্রাঙ্গণে বসেছিল শিকড়ের টানে বাঁধা পড়া সেই মানুষদের সেই স্বপ্নের মেলা।
অভিনয়শিল্পী, সংগীতশিল্পী, চলচ্চিত্র নির্মাতা, নৃত্যশিল্পী, সুরকার, লেখক কিংবা নাট্যকর্মী— ঢাকাস্থ রাজবাড়ীর প্রায় শতাধিক গুণী মানুষের উচ্ছ্বসিত পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ। উপলক্ষ্য ছিল সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ এক মতবিনিময় সভা; তবে ক্ষণে ক্ষণে তা রূপ নেয় সংস্কৃতি চর্চার এক মিলনমেলায়।
সভার শুরুতে সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী উপস্থিত সংস্কৃতিকর্মীদের স্বাগত জানান এবং মুক্ত আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় রাজবাড়ী জেলার শিল্প-সংস্কৃতি চর্চার নানা সীমাবদ্ধতা, প্রশাসনিক ও সামাজিক সমস্যা এবং বর্তমান স্থবিরতার বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন উপস্থিত সংস্কৃতিকর্মীরা।
সংস্কৃতিকর্মীদের বক্তব্য শোনেন প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। সাম্প্রতিক সময়ে সারা দেশের সংস্কৃতি চর্চায় একই ধরনের সমস্যা ও স্থবিরতা বিরাজ করছে জানিয়ে সুস্থ শিল্প ও সংস্কৃতি চর্চার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সরকারের নানা পদক্ষেপ ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি। তিনি বলেন, প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো ও ত্রুটিপূর্ণ আইন-কানুন সংশোধনের পাশাপাশি দেশব্যাপী সাংস্কৃতিক অবকাঠামোর উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পুনরুজ্জীবিত করতে ব্যাপক পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
সংস্কৃতির পরিধি ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, সংস্কৃতি শুধু সংগীত, নৃত্য বা নাটকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি একটি জাতির সামগ্রিক জীবনধারা। মানুষের কথা বলা, চলাফেরা, পোশাকের ধরন, ঐতিহ্যবাহী খাবার ও পিঠাপুলিসহ জীবনযাপনের নানা বিষয়ই সংস্কৃতির অংশ। সংগীত ও নাটক এর দৃশ্যমান অংশমাত্র।
বক্তব্যে দলমত নির্বিশেষে রাজবাড়ী জেলার সকল সংস্কৃতিকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ থেকে জেলার সংস্কৃতি চর্চাকে আরও সমৃদ্ধ ও বেগবান করার আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে রাজবাড়ী জেলা সহ দেশের বিভিন জেলা-উপজেলা শহরে শিল্পকলা একাডেমির পরিসর বাড়ানো ও নতুন অডিটোরিয়াম নির্মাণের কথা জানান।
সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ঢাকাস্থ রাজবাড়ী_জেলার সংস্কৃতিকর্মীদের মতবিনিময়
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন— টুকু মজনিউল (নাট্যকার ও পরিচালক), নূর ইমরান মিঠু (চলচ্চিত্র পরিচালক), আরজে নীরব, এমএনইউ রাজু (অভিনেতা ও পরিচালক), পান্থ আফজাল (সাংবাদিক, আবৃত্তিকার ও সংগঠক), বন্ধন বিশ্বাস (চলচ্চিত্র পরিচালক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক, পরিচালক সমিতি), মনিরুজ্জামান মুন্না (নির্মাতা, নির্বাহী প্রযোজক ও সংগঠক), রনি খান (পরিচালক), লিটু করিম (পরিচালক), কবির টুটুল (অভিনেতা), কবির তিথি (অভিনেত্রী ও নৃত্য পরিচালক), উৎপল (এডিটর, চরকি), বিপ্লব সরকার (এডিটর), সবুজ বিশ্বাস (নির্মাতা), সেতু বর্ধন (নির্মাতা), রোশান শরিফ (অভিনেতা), শিকদার ডায়মন্ড (নাট্যকার ও নির্মাতা), লাবণ্য লিজা (অভিনেত্রী), নন্দী (অভিনেতা), কাজী পলাশ (অভিনেতা ও সংগঠক), ফারজানা মীম (আবৃত্তিকার), সুমনা শিল্পী (আবৃত্তিকার), নাসির খান (নাট্যকার), আসলাম (চিত্রগ্রাহক) ও ছায়া কর্মকার (সংগীতশিল্পী) সহ স্থানীয় এবং ঢাকাস্থ আরও বহু শিল্পী ও শিশুশিল্পী।
এই আলোচনা সভা শেষে রাজবাড়ীর স্থানীয় ও ঢাকাস্থ শিল্পীদের পরিবেশনায় একটি মনোরম সংগীত সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়।
