
এশিয়ার সর্বপ্রথম মেডিকেল অ্যানাটমি লার্নিং অ্যাপ VirtuED-এর উদ্বোধন করলেন সাকিফ শামীম। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের দীর্ঘদিনের সীমাবদ্ধতাগুলো কাটিয়ে একটি আধুনিক, প্রযুক্তি-নির্ভর এবং স্মার্ট স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে VirtucareBD। অগমেন্টেড রিয়েলিটি (AR), ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (VR) এবং মিক্সড রিয়েলিটি (MR)-র মতো বিশ্বমানের প্রযুক্তিগুলোকে সরাসরি মূলধারার চিকিৎসাক্ষেত্রে সংযুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে এই প্ল্যাটফর্মটি কাজ শুরু করেছে। এর মাধ্যমে কেবল চিকিৎসা শিক্ষার আধুনিকায়নই নয়, বরং জটিল অস্ত্রোপচার পরিচালনা, উন্নত রোগ নির্ণয় এবং ডিজিটাল রোগী ব্যবস্থাপনায় এক নতুন যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে যা বাংলাদেশের সামগ্রিক জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার মানকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করবে। এর পাশাপাশি VirtucareBD সার্জিক্যাল সিমুলেশন ও ভার্চুয়াল হাসপাতাল কনসেপ্ট যুক্ত করে চিকিৎসা শিক্ষা ও সেবাকে আরও বাস্তবভিত্তিক ও সহজলভ্য করার উদ্যোগ নিয়েছে।
VirtucareBD মূলত একটি উচ্চতর প্রযুক্তিগত ইকোসিস্টেম হিসেবে কাজ করবে, যা প্রথাগত চিকিৎসা পদ্ধতির সঙ্গে আধুনিক বিজ্ঞানের সেতুবন্ধন তৈরি করে। এর কার্যপদ্ধতি কেবল তাত্ত্বিক শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসের প্রতিটি স্তরে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। অগমেন্টেড রিয়েলিটি প্রযুক্তির মাধ্যমে চিকিৎসকরা এখন রোগীর শরীরের অভ্যন্তরীণ জটিল গঠনগুলো অস্ত্রোপচারের আগেই ত্রিমাত্রিক (3D) আকারে পর্যবেক্ষণ করতে পারছেন। এটি সার্জনদের জন্য একটি 'ডিজিটাল ম্যাপ' হিসেবে কাজ করে, যা অস্ত্রোপচারের সময় ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কমিয়ে দেয় এবং রোগীর সুরক্ষা নিশ্চিত করে। এছাড়া ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে এমন এক কৃত্রিম পরিবেশ তৈরি করা হয় যেখানে তরুণ চিকিৎসকরা কোনো ঝুঁকি ছাড়াই বাস্তবসম্মতভাবে জটিল সব চিকিৎসা পদ্ধতি বারবার অনুশীলন করতে পারেন। এর ফলে হাসপাতালে রোগীর সেবার মান বহুগুণ বেড়ে যায় এবং চিকিৎসকরা অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কাজ করতে সক্ষম হন।
অন্যদিকে, VirtuED হলো VirtucareBD-এর ফ্ল্যাগশিপ মেডিকেল অ্যানাটমি লার্নিং অ্যাপ, যা এশিয়ার সর্বপ্রথম ইমার্সিভ ডিজিটাল অ্যানাটমি শিক্ষার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে যাত্রা শুরু করেছে। এই অ্যাপের মাধ্যমে মেডিকেল শিক্ষার্থীরা মানবদেহের জটিল অঙ্গসংস্থানগুলোকে AR, VR ও 3D ভিজ্যুয়ালাইজেশনের মাধ্যমে বাস্তবসম্মতভাবে শেখার সুযোগ পাচ্ছেন। VirtuED চিকিৎসা শিক্ষাকে বইভিত্তিক সীমাবদ্ধতা থেকে বের করে এনে এক নতুন, ইন্টার্যাকটিভ ও ভবিষ্যতমুখী শিক্ষার অভিজ্ঞতা তৈরি করছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে VirtucareBD-র ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ল্যাবএইডের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব সাকিফ শামীম তাঁর বক্তব্যে বলেন, VirtucareBD কোনো একক প্রযুক্তি উদ্যোগ নয়; বরং বৈশ্বিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের ডেটা, আধুনিক গবেষণা এবং ভবিষ্যতমুখী প্রযুক্তিকে একীভূত করে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে একটি বৈজ্ঞানিক মানদণ্ড প্রতিষ্ঠার একটি সুপরিকল্পিত প্রয়াস। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ডেটা-ড্রিভেন সিদ্ধান্ত, ইমার্সিভ সিমুলেশন এবং রিমোট অ্যাসিস্ট্যান্স প্রযুক্তির মাধ্যমে চিকিৎসা শিক্ষার মান উন্নয়ন, চিকিৎসকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই VirtucareBD-এর মূল দর্শন ও লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে ল্যাবএইড গ্রুপের বিভিন্ন অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের স্বনামধন্য চিকিৎসকবৃন্দের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের প্রখ্যাত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ উপস্থিত ছিলেন। মেডিকেল এডুকেশন সার্জারি, অনকোলজি ও ডিজিটাল হেলথ খাতের অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের সক্রিয় উপস্থিতি ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে VirtucareBD-এর এই যাত্রা স্বাস্থ্যখাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের শীর্ষস্থানে আরোহণ করার জন্য VirtucareBD তাদের গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D) বিভাগে বিশাল বিনিয়োগ করছে। VirtucareBD-র দূরবর্তী চিকিৎসা বা 'টেলি-অ্যাসিস্ট্যান্স' প্রযুক্তি গ্রামীণ ও মফস্বল এলাকার স্বাস্থ্যসেবায় আমূল পরিবর্তন আনবে। এর মাধ্যমে রাজধানী বা বিদেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এআর ডিভাইসের সাহায্যে দূর থেকেই স্থানীয় চিকিৎসকদের জটিল পরিস্থিতিতে সরাসরি দিকনির্দেশনা দিতে পারবেন। এই প্রযুক্তিগত অগ্রগতিগুলো VirtucareBD-কে কেবল বাংলাদেশেই নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী হেলথ-টেক ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।
উন্নত প্রযুক্তি কেবল ব্যয়বহুল হাসপাতালের জন্য নয়, বরং দেশের সাধারণ মানুষের দোড়গোড়ায় পৌঁছানো উচিত। এই প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহারের ফলে চিকিৎসকদের দক্ষতা যেমন বাড়বে, তেমনি দেশের সাধারণ মানুষ সাশ্রয়ী মূল্যে এবং আধুনিক পদ্ধতিতে উন্নত চিকিৎসা সেবা লাভ করবে। ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে স্বাস্থ্য খাতের এই রূপান্তর এক অপরিহার্য অংশ। VirtucareBD-র এই সাহসী উদ্যোগ বাংলাদেশের চিকিৎসকদের আন্তর্জাতিক মানের উদ্ভাবনী ক্ষমতার সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি একটি রোগমুক্ত ও সমৃদ্ধ দেশ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।
অ্যাপ ডাউনলোড করতে ভিজিট করুন
আমার বার্তা/এমই

