লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত অন্তত ১২

প্রকাশ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৪১ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন

লেবাননের পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। ২০২৪ সালে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ-এর সঙ্গে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর সাম্প্রতিক বড় ধরনের হামলার মধ্যে এটি একটি বলে জানা গেছে।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) এ তথ্য জানিয়েছে। খবর আল জাজিরার।

এনএনএ জানায়, বেকা প্রদেশের রিয়াক শহরের একটি ভবনে হামলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০ জনের বেশি হয়েছে এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। সেখানে জীবিতদের উদ্ধারে তল্লাশি অভিযান এখনো চলছে।

ইসরায়েলের সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, তারা বালবেক এলাকায় হিজবুল্লাহর ‘কমান্ড সেন্টার’ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তবে বার্তা সংস্থা এএফপিকে হিজবুল্লাহর একটি সূত্র জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে সংগঠনটির এক সামরিক নেতা রয়েছেন।

লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর সাইদনের উপকণ্ঠে অবস্থিত দেশের বৃহত্তম ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবির আইন 'আল-হিলওয়েহ'-তে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন।

এনএনএ জানায়, শিবিরটির হিত্তিন এলাকায় একটি ইসরায়েলি ড্রোন হামলা চালায়। ইসরায়েলের সেনাবাহিনী দাবি করে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি বারবার লঙ্ঘনের জবাবে তারা হামাসের একটি ‘কমান্ড সেন্টার’-এ আঘাত হেনেছে, যেখান থেকে সন্ত্রাসীরা কার্যক্রম পরিচালনা করছিল।

হামাস এ হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এতে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। তারা আরও দাবি করে, লেবাননের শরণার্থী শিবিরগুলোতে তাদের কোনো প্রশিক্ষণকেন্দ্র নেই; ইসরায়েলের অভিযোগ ‘মনগড়া’।

এনএনএ আরও জানায়, শরণার্থী শিবিরে হামলায় একটি ভবন ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভবনটি আগে শিবিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা যৌথ ফিলিস্তিনি বাহিনী ব্যবহার করত। বর্তমানে সেটি একজন ব্যক্তি ভাড়া নিয়ে খাদ্য সহায়তা বিতরণের রান্নাঘর হিসেবে ব্যবহার করছিলেন।

গত নভেম্বর মাসে আইন আল-হিলওয়েহ শিবিরে ইসরায়েলের বড় ধরনের হামলায় ১৩ জন নিহত হন, যাঁদের মধ্যে ১১ জন শিশু ছিলেন, বলে জাতিসংঘের মানবাধিকার দফতর জানিয়েছিল।

সাম্প্রতিক হামলাগুলোকে কেন্দ্র করে অঞ্চলটিতে আবারও উত্তেজনা বেড়েছে এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।


আমার বার্তা/জেএইচ