সুমুদ ফ্লোটিলা কর্মীদের আটক: তীব্র সমালোচনার মুখে ইসরায়েলি মন্ত্রী গভির
প্রকাশ : ২১ মে ২০২৬, ১০:২৯ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ও কট্টর ডানপন্থী নেতা ইতামার বেন-গভিরের বিরুদ্ধে গাজাগামী ফ্লোটিলা কর্মীদের বিরুদ্ধে ‘অমানবিক ও অপমানজনক’ আচরণের অভিযোগ তুলে তীব্র সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দুই সিনেটর ক্রিস ভ্যান হলেন ও জেফ মার্কলি। একই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। খবর আল জাজিরার
ডেমোক্র্যাট সিনেটর জেফ মার্কলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেন, বেন-গভিরের এই আচরণ জঘন্য ও অমানবিক। গাজায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া জনপদ ও অসহায় পরিবারগুলোর ছবি দেখেই বোঝা যায় কেন মানুষ প্রতিবাদে নামছে।
অপরদিকে সিনেটর ক্রিস ভ্যান হলেন বলেন, ক্যামেরার সামনে বেন-গভির বন্দিদের সঙ্গে যেভাবে আচরণ করছেন তাতে বোঝা যায়, ক্যামেরার আড়ালে ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে কী ঘটতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এই আচরণ ঘৃণ্য। অনেক আগেই যুক্তরাষ্ট্রের তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া উচিত ছিল। ক্রিস ভ্যান হলেন ও জেফ মার্কলি দীর্ঘদিন ধরেই ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থানের জন্য পরিচিত। এর আগে তারা গাজার অবরোধের প্রতিবাদ জানাতে রাফাহ সীমান্তও সফর করেছিলেন।
এদিকে, ফ্লোটিলা কর্মীদের সঙ্গে আচরণের ঘটনায় অস্ট্রেলিয়াও ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে। অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং এক বিবৃতিতে বলেন, ইসরায়েলি মন্ত্রী বেন-গভিরের প্রকাশ করা ভিডিওগুলো উদ্বেগজনক ও অগ্রহণযোগ্য।
তিনি বলেন, আটকদের সঙ্গে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের অপমানজনক আচরণের নিন্দা জানাই আমরা। পেনি ওং আরও জানান, ফ্লোটিলায় অংশ নেওয়া ১১ অস্ট্রেলীয় নাগরিকের মুক্তি দাবি করেছে ক্যানবেরা। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন মেনে বন্দিদের সঙ্গে আচরণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, আমি পররাষ্ট্র দপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছি, অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে তলব করে এ বার্তা পৌঁছে দিতে।
ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তাও ফ্লোটিলা কর্মীদের সঙ্গে আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, ইসরায়েলি মন্ত্রী বেন-গভিরের আচরণে আমি বিস্মিত ও মর্মাহত। এটি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।
তিনি অবিলম্বে আটকদের মুক্তির দাবি জানান।
এর আগে ইতামার বেন-গভির নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে দেখা যায়, গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার গাজাগামী কর্মীদের হাত বেঁধে হাঁটু গেড়ে বসিয়ে রাখা হয়েছে। এ সময় লাউডস্পিকারে ইসরায়েলের জাতীয় সংগীত বাজানো হচ্ছিল। ভিডিওটির ক্যাপশনে বেন-গভির লেখেন, ইসরায়েলে স্বাগতম।
ফ্লোটিলার কর্মীদের আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী আটক করে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত মঙ্গলবার পূর্ব ভূমধ্যসাগর থেকে গাজায় মানবিক সহায়তা নিয়ে যাওয়ার পথে আন্তর্জাতিক ত্রাণবহরের (ফ্লোটিলা) ওপর বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করে ইসরায়েলি বাহিনী। গাজামুখী এ বহরের অন্তত ৪৮টি নৌযান ছিল। নৌযানগুলো থেকে প্রায় ৪০০ জন আন্তর্জাতিক অধিকারকর্মীকে আটক করা হয়েছে।
‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ ত্রাণবহরের দুটি নৌযান লক্ষ্য করে ইসরাইলি সেনারা গুলিবর্ষণ করেছে বলেও অভিযোগ ওঠে। অবশ্য ইসরাইল দাবি করেছে, তারা কোনো গুলি চালায়নি। এছাড়া তাদের গ্রেপ্তার অভিযানে কেউ হতাহত হননি।
কিন্তু বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ত্রাণবহরের পক্ষ থেকে সরাসরি সম্প্রচারিত ভিডিওতে দেখা গেছে, ইসরাইলি সেনারা দুটি নৌযান লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ছেন। তবে সেগুলো কী ধরনের গোলাবারুদ ছিল, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
গত বৃহস্পতিবার ৩৯টি দেশের ৪২৬ জন অধিকারকর্মী ও সাহায্যকর্মী নিয়ে দক্ষিণ তুরস্ক থেকে তৃতীয়বারের মতো গাজার উদ্দেশে রওনা হয়েছিল এই ত্রাণবহর। এর আগের দুটি প্রচেষ্টাও আন্তর্জাতিক জলসীমায় আটকে দিয়েছিল ইসরায়েল।
