মুসলিম দেশগুলোকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের আহ্বান ট্রাম্পের
প্রকাশ : ২৫ মে ২০২৬, ১৯:৫৫ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

ইরান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে কোনও চুক্তি সম্পন্ন হলে আরব ও অন্যান্য মুসলিম দেশগুলো যেন ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করে, সে বিষয়ে তাগিদ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার বেশ কয়েকটি আরব ও মুসলিম দেশের নেতাদের সঙ্গে এক যৌথ ফোনালাপে ট্রাম্প এই আহ্বান জানান। ফোনালাপের বিষয়ে সরাসরি অবগত দুজন মার্কিন কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ফোনালাপে ইসরায়েল এবং দেশগুলোকে আব্রাহাম চুক্তিতে যুক্ত করার বিষয়ে ট্রাম্পের এই মন্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে তিনি পরবর্তী কী বড় পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন। ট্রাম্প মূলত একটি ঐতিহাসিক সৌদি-ইসরায়েল শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছেন। তবে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনের কারণে নিকট ভবিষ্যতে এমন কোনও বড় অগ্রগতি অর্জন করা অত্যন্ত কঠিন।
শনিবার ইরানের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্ভাব্য চুক্তিটি নিয়ে আলোচনা করতে ট্রাম্প সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিসর, জর্ডান এবং বাহরাইনের নেতাদের সঙ্গে ফোনালাপ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা জানান, আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ ইরান যুদ্ধ নিয়ে তুলনামূলকভাবে কঠোর মনোভাব পোষণ করেন এবং দেশটি ইতোমধ্যে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছে। তিনিসহ অপর নেতারা এই সম্ভাব্য চুক্তিটিকে সমর্থন করার কথা জানিয়েছেন। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘তারা সবাই বলেছেন, এই চুক্তিতে আমরা আপনার সঙ্গে আছি। আর যদি এটি কাজ না-ও করে, তবুও আমরা আপনার সঙ্গেই থাকব।’
ফোনালাপের বিষয়ে অবগত একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্প ওই নেতাদের বলেছেন যে তিনি এরপরই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ফোন করবেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে অদূর ভবিষ্যতে ইসরায়েলের নেতাও তাদের সঙ্গে একই ফোনালাপে যুক্ত হবেন।
দুজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্প নেতাদের স্পষ্ট করে বলেছেন যে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর তিনি আশা করেন যে, যারা এখনও আব্রাহাম চুক্তির অংশ নন কিংবা ইসরায়েলের সঙ্গে কোনও শান্তি চুক্তি করেননি, তারা সবাই এতে যোগ দেবেন এবং ইহুদি রাষ্ট্রটির সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবেন।
ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকা দেশগুলোর মধ্যে বিশেষ করে সৌদি আরব, কাতার এবং পাকিস্তানের নেতারা ট্রাম্পের এই আকস্মিক অনুরোধে স্তম্ভিত বা বিস্মিত হয়ে যান। একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘অনুরোধের পর লাইনে সম্পূর্ণ নীরবতা নেমে এসেছিল এবং ট্রাম্প রসিকতা করে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে তারা এখনও লাইনে আছেন কি না।’ এরপর ট্রাম্প নেতাদের জানান যে, তার দূত জ্যারেড কুশনার এবং স্টিভ উইটকফ আগামী সপ্তাহগুলোতে এই বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী তদারকি করবেন।
রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আমি মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশকে এ পর্যন্ত তাদের সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানাতে চাই, যা ঐতিহাসিক আব্রাহাম চুক্তিতে তাদের যোগদানের মাধ্যমে আরও বৃদ্ধি ও শক্তিশালী হবে।’
তিনি এমনকি কোনও একদিন ইরানেরও আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দেওয়ার ধারণাটি তুলে ধরেছেন। তবে এর জন্য তেহরানকে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিতে হবে, যা তারা কয়েক দশক ধরে প্রত্যাখ্যান করে আসছে। বর্তমান ইরানি শাসনব্যবস্থা ইসরায়েলকে শত্রু হিসেবে দেখে এবং একে ধ্বংস করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
অন্যদিকে, ইরানের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্ভাব্য চুক্তির সমালোচনা করা এবং কংগ্রেসের ভেতর আব্রাহাম চুক্তি সম্প্রসারণের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম রবিবার এক্স-এ একটি পোস্টে আরব ও মুসলিম নেতাদের প্রতি ট্রাম্পের এই অনুরোধকে সমর্থন জানিয়েছেন।
গ্রাহাম বলেন, ‘ইরানি সংঘাত অবসান ঘটানোর এই আলোচনার ফলস্বরূপ যদি মধ্যপ্রাচ্যের আমাদের আরব ও মুসলিম মিত্ররা আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দিতে সম্মত হয়, তবে এটি এই চুক্তিটিকে মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী একটি চুক্তিতে পরিণত করবে।’
গ্রাহাম সৌদি আরবসহ অন্যান্য দেশগুলোকে ট্রাম্পের অনুরোধ মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে লিখেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পরামর্শ অনুযায়ী আপনারা যদি এই পথে হাঁটতে অস্বীকৃতি জানান, তবে তা আমাদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং এই শান্তি প্রস্তাবটিকে গ্রহণযোগ্যতাহীন করে তুলবে। উপরন্তু, ইতিহাস একে একটি মস্ত বড় ভুল হিসাব হিসেবে দেখবে।’
সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে আগে ইচ্ছা প্রকাশ করলেও, গত এক বছরে এই ইস্যুতে তার অবস্থান অনেকটাই শীতল হয়ে পড়েছে। গত নভেম্বরে ওভাল অফিসে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ট্রাম্প বিন সালমানকে আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দিতে বলেছিলেন। সে সময় সৌদির যুবরাজ এর বিরোধিতা বা পাল্টা যুক্তি দিয়েছিলেন এবং বৈঠকটি বেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল।
ইরান যুদ্ধ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সৌদি আরবের নিজস্ব দূরত্ব তৈরি হওয়ার কারণে সৌদি রাজ্য এখন ইসরায়েলের অতি-ডানপন্থি সরকারের প্রতি আরও বেশি সংশয়ী ও কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
সৌদি কর্মকর্তারা এখনও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার শর্ত হিসেবে একটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের জন্য অলঙ্ঘনীয় এবং সময় নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দাবি করে আসছেন। তবে ইসরায়েলি সরকার তা প্রত্যাখ্যান করছে। ইসরায়েলি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, আগামী সেপ্টেম্বর মাসে নির্ধারিত ইসরায়েলের নির্বাচনের আগে এবং সেখানে কোন সরকার শপথ নিচ্ছে তা দেখার আগে রিয়াদ এই বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ নেবে না।
আমার বার্তা/এমই
