সাগর পথে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা, আটকে কিডনি রেখে দেওয়া হয়েছে অনেকের!

প্রকাশ : ০৯ জুন ২০২৬, ১৫:০১ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

সাগরি পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে ইউরোপের দেশ যুক্তরাজ্য পাড়ি দিতে গিয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন একদল অভিবাসী। ভূমধ্যসাগর থেকে তাদের অপহরণ করে মুক্তিপণের জন্য কিডনি অপসারণের ‍হুমকি দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (০৯ জুন) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, অনেকের কিডনি রেখেও দেওয়া হয়েছে।

বিবিসি জানিয়েছে, গত গ্রীস্মে ৩০০ অভিবাসীকে অপহরণ করে একটি মিলিশিয়া গোষ্ঠী। এরপর তাদের পরিবারের কাছে মুক্তিপণ আদায়ের জন্য অমানুষিক নির্যাতন এবং জোরপূর্বক কিডনি অপসারণের হুমকি দেওয়া হয়েছে।

অপহৃতদের সকলে ইরাকের কুর্দিস্তানের বাসিন্দা ছিলেন। লিবিয়ার একটি মিলিশিয়া গ্রুপ তাদের অপহরণ করে পরিবারের কাছে ৫ হাজার ডলার মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এমনকি দ্রুত মুক্তিপণ না দিলে তাদের কিডনি অপসারণের হুমকি দেওয়া হয়।

বিবিসি কয়েকজন জিম্মির সঙ্গে কথা বলেছ। এছাড়া কিছু ছবিও যাচাই করেছে। এসব ছবিতে জোরপূর্বক অস্ত্রোপচারের সত্যতা মিলেছে। মুক্তি পাওয়া অভিবাসীরা নির্যাতনের নানা প্রমাণও বিবিসিকে দেখিয়েছেন।

মুক্তিপ্রাপ্তরা বলেছেন, অপহরণের পর তাদের অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ও গাদাগাদি পরিবেশে রাখা হয়েছিল। একটি কক্ষে প্রায় ১৮০ জনকে একসঙ্গে আটকে রাখা হয়। এসময় অন্তত এক অভিবাসীর মৃত্যুর নিশ্চিত তথ্য মিলেছে। তবে এখনও ঠিক কতজন বন্দি রয়েছেন তা স্পষ্ট জানা যায়নি।

বিবিসি বলছে, মিলিশিয়া গোষ্ঠীটির লিবিয়া হয়ে ভূমধ্যসাগরের উপকূলীয় অঞ্চলে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল অভিবাসীদের। কিন্তু তারা এর বদলে অভিবাসীদের অপহরণ করে। ইরাকি কুর্দি মানবপাচারকারী নোয়া অ্যারন অভিবাসীদের এই যাত্রার ব্যবস্থা করেছিলেন। কিন্তু লেনদেন নিয়ে বিরোধের জেরে অভিবাসীদের অপহরণ করে গোষ্ঠীটি।  

এ ঘটনায় অর্থপাচার ও মানবপাচারের পৃথক মামলায় নোয়া অ্যারনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তদন্তে কার্দো জাফ নামের আরেক মানবপাচারকারীর তথ্য সামনে এসেছে। তাকেও চলতি মাসে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

প্রতিবেদেন বলা হয়েছে, লিবিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা বিভিন্ন প্রতিদ্বন্দ্বী মিলিশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফলে এসব এলাকায় মানবপাচার চক্রগুলো তাদের সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল।

বিবিসি আরও বলছে, ২০২৫ সালের গ্রীষ্মে ইরাকের কুর্দিস্তান থেকে বিমানে করে লিবিয়ায় পৌঁছানো একাধিক অভিবাসী দলকে একটি কম্পাউন্ডে আটকে রাখা হয়। এরপর মিলিশিয়ারা প্রত্যেক বন্দির জন্য ৫ হাজার ডলার মুক্তিপণ দাবি করে। তাদের দাবি, আগের একটি চুক্তির টাকা নোয়া অ্যারন পরিশোধ করেননি। পরিবারগুলোকে বলা হয়, দ্রুত অর্থ পরিশোধ না করলে ‘কিডনি নিয়ে নেওয়া হবে’।

মিলিশিয়ারা বন্দিদের পরিবারের কাছে অত্যন্ত মর্মান্তিক ও সহিংস ছবি-ভিডিও পাঠায়। এছাড়া মু্ক্তি পাওয়া ব্যক্তিদের শরীরেও অস্ত্রোপচারের দাগ মিলেছে। এসব ছবি একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে দেখিয়েছে বিবিসি। তিনি জানান, ছবিতে দেখা দাগগুলো কিডনি অপারেশনের সময় করা অস্ত্রোপচারের কাটার দাগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রয়েছে। তবে প্রকৃতপক্ষে কারোর কিডনি অপসারণ করা হয়েছিল কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সূত্র: বিবিসি


আমার বার্তা /জেএইচ