ভারতের ককরোচ পার্টি কি পুরোদমে রাজনীতিতে নামছে? মুখ খুললেন নেতারা
প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৬, ১২:২৭ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

প্রশ্নফাঁস ও শিক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়মের বিরুদ্ধে টানা আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। আর এই পুরো আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি। আন্দোলন সফল হওয়ার পর এই সংগঠনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। প্রশ্ন উঠছে, ককরোচ পার্টির নেতারা কি পুরোদমে রাজনীতিতে যোগ দেবেন? এ বিষয়ে অবশেষে মুখ খুলেছেন সংগঠনের শীর্ষ নেতারা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাশ ভবিষ্যতের কর্মপন্থা নিয়ে কথা বলেছেন। তারা পরিষ্কার জানিয়েছেন, রাজনৈতিক দল গঠন করা তাদের এখনই মূল লক্ষ্য নয়।
সৌরভ দাশ জানান, ভারতে এরই মধ্যে ৭৫০-৮০০ রাজনৈতিক দল রয়েছে। কিন্তু যুবসমাজের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে তাদের অনেকেই ব্যর্থ হয়েছে। তাই তাদের মূল এজেন্ডা হলো এই আন্দোলনকে তৃণমূল স্তরে ছড়িয়ে দেওয়া, যাতে ক্ষমতায় যে দল বা নেতাই থাকুক না কেন, তারা যুবসমাজের দাবিগুলো মানতে বাধ্য হয়।
রাজনীতি নিয়ে কী বললেন আশুতোষ রাঙ্কা?
ভবিষ্যতে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা সরাসরি উড়িয়ে দেননি আশুতোষ রাঙ্কা। তাকে যখন প্রশ্ন করা হয়, তিনি কি রাজনীতিকে একেবারে না বলছেন?
উত্তরে রাঙ্কা বলেন, ভারতে কোনো কিছুকেই না বলতে নেই। তবে এই মুহূর্তে তার প্রথম কাজ হলো বাড়ি ফিরে একটু বিশ্রাম নেওয়া এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো। প্রায় দুই মাস ধরে তিনি বাড়ি থেকে দূরে রয়েছেন। পুরো বিষয়টি তাদের জন্য যথেষ্ট আবেগঘন এবং স্বস্তিদায়ক বলে উল্লেখ করেন সিজেপির মুখপাত্র।
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও আন্দোলনের জয়
গত ২০ জুন দিল্লির যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের আন্দোলন শুরু করেছিল সিজেপি। প্রথমে স্যাটায়ার বা ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন ক্যাম্পেইন হিসেবে শুরু হওয়া এই প্রতিবাদ রূপ নেয় ভারতের অন্যতম বড় যুব আন্দোলনে।
এই আন্দোলনের চাপের মুখেই পদত্যাগ করেছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। নরেন্দ্র মোদীর জমানায় কোনো মন্ত্রীর পদত্যাগের এটি বিরল ঘটনা।
শেষ বৈঠকে বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা এবং মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়। এর আগেই শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় আলোচনা বেশ সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে শেষ হয় বলে জানান নেতারা।
মামলা প্রত্যাহার ও আন্দোলনের সমাপ্তি
আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার নিয়োগ কথা হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে। আশুতোষ রাঙ্কা জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারী এবং গুরুতর অপরাধীদের মধ্যে পার্থক্য পরিষ্কার।
সরকারের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী, সব শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারী ও আয়োজকের বিরুদ্ধে থাকা এফআইআর তুলে নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে সিজেপি আয়োজকদের নামে আর কোনো নতুন মামলা হবে না বলেও আশা প্রকাশ করছে ককরোচ জনতা পার্টি। - সূত্র: এনডিটিভি
