নেপালে নিহত বেড়ে প্রায় ৬০০, নিখোঁজ প্রায় ২ হাজার

প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫৭ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

নেপালে আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এখন পর্যন্ত ৫৭৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় দুই হাজার মানুষ। নিখোঁজদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) নেপালের দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার সর্বশেষ তথ্যে এসব বিষয় জানানো হয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে ৫৭৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

এখনো ১ হাজার ৯২৪ জনের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিখোঁজদের মধ্যে ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিক। দুর্যোগকবলিত এলাকায় উদ্ধার ও তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করতে নিরাপত্তাবাহিনীর প্রায় ১৫ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা ৫৭৫। তারা ৩৬ দেশের নাগরিক। এর মধ্যে ভারতের ১৮৩ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৬৫ জন, ইউক্রেনের ৬২ জন এবং যুক্তরাজ্যের ৩৩ নাগরিক রয়েছেন। খবর বিবিসির।

নিখোঁজ বিদেশিদের বড় একটি অংশ পর্যটক বলে ধারণা করা হচ্ছে। নেপালের যে অঞ্চলগুলো বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার কাছেই চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তিব্বত। তিব্বতের কৈলাস-মানস সরোবর হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র স্থান। প্রতিবছর ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক পর্যটক সেখানে যান। ফলে সাম্প্রতিক দুর্যোগে বিদেশি নাগরিকদের বড় একটি অংশ নিখোঁজ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

গত বুধবার সকালে রাসুয়া এলাকায় হঠাৎ পাহাড়ি ঢল নেমে আসে। এতে ত্রিশূলী ও নারায়ণী নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকে। একই সময়ে ভোটেকোশী নদীতেও পানির প্রবাহ বেড়ে যায়। পাহাড় থেকে নেমে আসা পানির সঙ্গে মিশে যায় ভূমিধসের মাটি, কাদা ও বড় বড় পাথর।

প্রবল স্রোতে মুহূর্তের মধ্যেই ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি হয়। পানির তোড়ে ঘরবাড়ি, সেতু, গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটিসহ বিভিন্ন স্থাপনা ভেসে যায়। অনেক এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

নেপালের পাশাপাশি সীমান্তবর্তী চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তিব্বতও এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে প্রায় ৩০০ মানুষ নিখোঁজ থাকার খবর পাওয়া গেছে। চীনা কর্তৃপক্ষ এর আগে তিব্বতে তিনজনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছিল। এরপর নতুন করে হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।

চীনের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, ভয়াবহ এই বন্যায় তিব্বতে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে। দুর্গত এলাকায় উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে।