সিইসির পদত্যাগ দাবিতে ‘জেল ভরো’ আন্দোলন ককরোচ পার্টির

প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৫০ | অনলাইন সংস্করণ

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের তরুণদের ব্যাঙ্গাত্মক রাজনৈতিক দল- ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আগামী ২ অক্টোবর মুম্বাইয়ে ‘জেল ভরো আন্দোলন’-এর ডাক দিয়েছে।  

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, সিইসির পদত্যাগের দাবিতে মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচির অনুমতি না দেওয়ার পর দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এই নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দেন। 

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ২ অক্টোবর শিবাজি পার্কে ‘জেল ভরো আন্দোলন’-এর কথা জানান।

সিজেপি জানিয়েছে, ‘জেল ভরো আন্দোলন’-এর উদ্দেশ্য হলো ব্যাপক সংখ্যায় গ্রেফতার হয়ে সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ তৈরি করা এবং নিজেদের দাবির প্রতি জনদৃষ্টি আকর্ষণ করা।

মুম্বাই পুলিশের দাবি, শিবাজি পার্ক আবাসিক এলাকার মধ্যে অবস্থিত এবং সেখানে শব্দদূষণ ও যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। আশপাশে একাধিক হাসপাতাল থাকায় বড় ধরনের জমায়েত হলে জরুরি পরিষেবা ও যান চলাচলেও সমস্যা তৈরি হতে পারে। 

২০১৩ সালের বোম্বে হাইকোর্টের একটি নির্দেশ এবং পরবর্তী সরকারি বিধিনিষেধের কথাও উল্লেখ করে আয়োজকদের আয়োজকদের মুম্বাইয়ের অন্য কোনো স্থানে কর্মসূচি আয়োজনের জন্য আবেদন করতে বলেছে পুলিশ।

পুলিশের এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অভিজিৎ দীপকে। 

তিনি বলেন, তাদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচির অনুমতি না দিয়ে নাগরিকদের প্রতিবাদের অধিকার সীমিত করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের স্বাধীন কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করতে প্রশাসনের এমন কৌশল কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

এর আগে সিজেপি ঘোষণা করেছিল, ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে ২ অক্টোবর মুম্বাই থেকে দেশজুড়ে আন্দোলন শুরু করা হবে। 

বৃহস্পতিবারের এক সংবাদ সম্মেলনে দিপকে দাবি করেন, দেশটির ৩০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআরের সময় ১৩ কোটির বেশি নাম খসড়া ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। 

মূল বিতর্কের সূত্রপাত হয় ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর একটি তদন্তমূলক প্রতিবেদনের পর।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, নির্বাচন কমিশনের দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশী ভোটার নিবন্ধন, নাম বাদ দেওয়া ও পুনর্বহাল এবং ভোটার তালিকা ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত জ্ঞানেশ কুমারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন। তবে তাতে কর্ণপাত করা হয়নি।

এদিকে নির্বাচন কমিশন অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের বিষয়টি ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছে। কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, একাধিক সদস্যের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে অভ্যন্তরীণ আলোচনা বা মতের পার্থক্য স্বাভাবিক বিষয়। 

কমিশন আরও জানিয়েছে, এসআইআর সংক্রান্ত সিদ্ধান্তসহ চূড়ান্ত সিদ্ধান্তগুলো সর্বসম্মতভাবেই নেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে সিজেপিসহ ভারতের বিরোধী দলগুলো বলছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের মাধ্যমে কারা ভোট দিতে পারবেন এবং কারা পারবেন না—এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। 

সিজেপি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ছাড়াও এসআইআর প্রক্রিয়া স্থগিত করা, আগের ভোটার তালিকা পুনর্বহাল করে যাচাইয়ের সুযোগ দেওয়া এবং এসআইআর-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের স্বাধীন তদন্তের দাবিও জানিয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগসংক্রান্ত ২০২৩ সালের আইন বাতিল করে নতুন আইন প্রণয়নের দাবিও তুলেছে।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, হিন্দুস্তান টাইমস