শেখ হাসিনা, টিউলিপ ও ববিসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে রায় ২ ফেব্রুয়ারি
প্লট দুর্নীতির মামলা
প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:২৯ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন

ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোনের ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি, বোনের টিউলিপ সিদ্দিকসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা পৃথক মামলার রায় আগামী ২ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা করা হবে।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক রবিউল আলম রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর হাফিজুর রহমান হাফিজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দুদকের পক্ষে অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন এবং আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা হিসেবে যাবজ্জীবন প্রত্যাশা করেন। কারাগারে থাকা একমাত্র আসামি খুরশীদ আলমের পক্ষে আইনজীবী শাহীনুর ইসলাম যুক্তিতর্ক তুলে ধরে বলেন, দুদক অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি এবং তার খালাস দাবি করেন।
উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ২ ফেব্রুয়ারি রায়ের দিন ধার্য করেন।
মামলার অপর আসামিরা হলেন—গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রনালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, শেখ হাসিনার সাবেক একান্ত সচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন, জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব শহীদ উল্লা খন্দকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) কাজী ওয়াছি উদ্দিন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক পরিচালক শেখ শাহিনুল ইসলাম, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, সাবেক সদস্য মেজর (ইঞ্জিনিয়ার) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), সাবেক সদস্য তন্ময় দাস, সাবেক সহকারি পরিচালক ফারিয়া সুলতানা ও মাজহারুল ইসলাম, সাবেক উপপরিচালক নায়েব আলী শরীফ।
গত বছরের ৫ আগস্ট ক্ষমতার পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ আমলের অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে। এই প্রেক্ষাপটে রাজউকের পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ৬০ কাঠার প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে গত বছরের জানুয়ারিতে ছয়টি মামলা দায়ের করে দুদক।
এসব মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, বোন শেখ রেহানা, ভাগ্নি ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক, আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তী ও ভাগ্নে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববিকে আসামি করা হয়।
এর মধ্যে শেখ হাসিনার তিন মামলার বিচার শেষে সাজার রায় ঘোষণা হয়েছে। শেখ রেহানা ও টিউলিপের একটি মামলারও রায় হয়েছে। চার মামলায় শেখ হাসিনাকে মোট ২৬ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জয় ও পুতুলের পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড হয়েছে। এছাড়া শেখ রেহানার সাত বছর ও টিউলিপের দুই বছরের সাজা হয়েছে।
গত ১৩ জানুয়ারি রূপন্তীসহ ১৮ জনের মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। ববিসহ ১৮ আসামির পক্ষে মোট ২৮ জন সাক্ষী রেকর্ড করা হয়েছে। কারাগারে থাকা খুরশীদ আলম আত্মপক্ষ শুনানিতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। অপর আসামিরা পলাতক থাকায় আত্মপক্ষ শুনানি করতে পারেননি।
পূর্বাচলে ১০ কাঠা প্লট দুর্নীতির অভিযোগ এনে গত বছরের ১৩ জানুয়ারি দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ ববিকে প্রধান আসামি করে ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মাত্র দুই মাস ১১ দিনের মধ্যে ২৪ মার্চ তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ১৮ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
