বারবার মামলা না দিয়ে আমাকে গুলি করে মেরে ফেলেন : মিষ্টি সুভাস
প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:৩১ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

ঢাকার আশুলিয়া থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় মোসা. সিমু আক্তার বৃষ্টি ওরফে মিষ্টি সুভাসকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাজুল ইসলাম সোহাগ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
শুনানি চলাকালে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বারবার মামলা না দিয়ে আমাকে গুলি করে মেরে ফেলেন। এদিন আসামি সুভাসকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। দুপুর ১২টার পর কাঠগড়ায় নেওয়ার জন্য তাকে হাজতখানা থেকে বের করা হয়।
এ সময় তিনি অসুস্থতা অনুভব করে মাথা ঘুরে নিচে পড়ে যান। তখন দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তাকে ধরে হাজতখানায় ফিরিয়ে নিয়ে যায়। পরে সুস্থতা অনুভব করলে তাকে ফের কাঠগড়ায় তোলা হয়। তার উপস্থিতিতে শুনানি শুরু হয়।
এ সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা মিষ্টি সুভাস কথা বলার অনুমতি চান। এরপর তিনি বিচারকের উদ্দেশে জানান, আমি একজন বীরমুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে স্মৃতিসৌধে ফুল দিতে গিয়েছি। এটা তো কোনো অপরাধ হতে পারে না। আমাকে নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র হচ্ছে। জামিন পেলেই আমাকে একের পর এক মামলা দেওয়া হচ্ছে। আমি তো কোন অন্যায় করেনি। বারবার মামলা না দিয়ে আমাকে গুলি করে মেরে ফেলেন। এ সময় আসামিপক্ষে আইনজীবী গোলাম রাব্বানী গ্রেপ্তার না দেখানোর প্রার্থনা করেন। তবে শুনানি শেষে তাকে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে গত ২৬ মার্চ জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয় মিষ্টি সুবাস। পরবর্তী সময় তাকে চারটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এসব মামলায় জামিন পেয়ে তিনি কারামুক্তির অপেক্ষায় ছিলেন। তবে কারাগারে থাকা অবস্থায় গত ৯ সেপ্টেম্বর নতুন করে হত্যাচেষ্টার এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক আতোয়ার রহমান। ওইদিন আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য ১৩ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন আদালত।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকার আশুলিয়া থানার বাইপাইল মোড় এলাকায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যোগ দেন কিশোর মো. আবির। এ সময় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের অস্ত্রধারীরা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা করে। তাদের ছোড়া গুলিতে আবির গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর আশুলিয়া থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা হয়।
