একই বিমানে মরিশাসে যাচ্ছেন বাংলাদেশ ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
প্রকাশ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:৪০ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

দুইদিনের সফরে ভারতের রাজধানী দিল্লি যাবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। সফরে তিনি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ছাড়াও আরও কয়েকজন মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করবেন। তারপর দিল্লি থেকেই ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকরের সঙ্গে একই বিমানে মরিশাসে যাবেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। দেশটিতে অনুষ্ঠেয় ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্সে (ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলন) যোগ দেবেন দুই দেশের র্শীষ কূটনৈতিক।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সরকার গঠনের পর বাংলাদেশের এই প্রথম কোনও মন্ত্রী দিল্লি যাচ্ছেন। কূটনৈতিক মহল গুরুত্বের সঙ্গে এই সফরকে দেখছে। বিশেষ করে মাত্র দু'তিনমাস আগেও যে ঢাকার সঙ্গে দিল্লির সম্পর্কে রীতিমতো অস্বস্তি আর শীতলতা ছিল, সে দেশের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মি জয়শংকরের একসাথে দীর্ঘ বিমানযাত্রার সিদ্ধান্তই বলে দেয় দুই দেশই তাদের সম্পর্ক 'রিক্যালিব্রেট' করতে চাইছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সুত্রে জানা গেছে, দিল্লি সফরের প্রথম দিন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ছাড়াও আরও কয়েকজন মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের কথা আছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সফরসঙ্গী হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ূন কবির যাবেন।
দুই দেশের কর্মকর্তাদের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, আগামীকাল ৭ এপ্রিল দিল্লিতে পা রাখার পর ৯ এপ্রিল সকালেই দিল্লি থেকে খলিলুর রহমান সরাসরি মরিশাসের উদ্দেশে রওনা হবেন, যেখানে তিনি নবম ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্সে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। একই বিমানে যাবেন জয়শংকরও। এয়ার মরিশাসের ওই বাণিজ্যিক বিমানে একটানা ৭-৮ ঘণ্টার ওই দীর্ঘ সফরেও দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে একান্তে কথাবার্তা বলার বিস্তর সুযোগ থাকবে যথারীতি।
এরআগে দিল্লিতে পা রাখার পর দিনই (৮ এপ্রিল) তিনি একের পর এক বৈঠকে বসবেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকর, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর সঙ্গে। এছাড়াও ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের সঙ্গেও ড. খলিলুর রহমানের আলাদা একটি বৈঠক আয়োজনের জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে – তবে সেটি শেষ পর্যন্ত হবে কি না তা নিশ্চিত নয়।
যদিও বাংরাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই সফরটিকে ভারতও অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে, তবে দেশটির প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে ড. খলিলুর রহমানের কোনো বৈঠক হবে কিনা তা পরিষ্কার নয়।
ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সফর নিয়ে এখনো কোনো বিবৃতি আসেনি – তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো আভাস দিচ্ছে গঙ্গা চুক্তি নবায়নের আলোচনা শুরু করা, বিভিন্ন কানেক্টিভিটি প্রকল্পর অগ্রগতি, ভারত থেকে জ্বালানি সরবরাহ এবং পারস্পরিক বাণিজ্য সুবিধাগুলো পুনর্বহাল করার ব্যাপারে এই সফরে কথাবার্তা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া মরিশাসেও আবার দুদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ও কর্মকর্তাদের মধ্যে কথাবার্তা বলার সুযোগ থাকবে। অন্যভাবে বললে, দিল্লিতে মাত্র আটচল্লিশ ঘন্টার কম সময় অবস্থান করলেও খলিলুর রহমানের 'ভারত সফর' কার্যত চার-পাঁচদিনের মেয়াদ পেতে চলেছে – যার কূটনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। - সূত্র: বিবিসি বাংলা
আমার বার্তা/এমই
