গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে গুজব ঠেকাতে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার

প্রকাশ : ০৮ জুন ২০২৬, ১৯:১৭ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারপ্রধান থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্বদের নিয়ে অপপ্রচার এবং গুজব ঠেকাতে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি করা মানহানিকর ও ক্ষতিকর কনটেন্ট দ্রুত অপসারণ করতে ‘সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬’ নামে একটি সংশোধনী আনার কাজ শুরু হয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে মেটা বা ফেসবুকের মতো আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোকে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বিতর্কিত কনটেন্ট সরিয়ে নিতে বাধ্য করা হবে। পাশাপাশি অনলাইন-অফলাইন জুয়া ও মাদক নিয়ন্ত্রণে যুগোপযোগী দুটি নতুন আইনের খসড়াও চূড়ান্ত করা হয়েছে, যা চলতি সংসদ অধিবেশনেই পাস হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সোমবার (০৮ জুন) জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খানের এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সংসদে তথ্য মন্ত্রণালয়ের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত না থাকায় চিফ হুইপের চিঠির বিধান অনুযায়ী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই জবাব দেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মত প্রকাশের স্বাধীনতার অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, কিছুদিন ধরে দেখা যাচ্ছে দেশের সরকারপ্রধান, তার পরিবার এবং গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিদের নিয়ে ‘সাইবার স্পেসে’ স্বাধীনতার নামে বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর কনটেন্ট ছড়ানো হচ্ছে। স্বাধীনতার অর্থ আসলে কী, তা নতুন করে সংজ্ঞায়িত করার সময় এসেছে। এই অপতত্ত্ব ও গুজব প্রতিরোধে এরইমধ্যে আইনি সংস্কারের খসড়া তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। নতুন সংশোধনীতে গুজব ও মানহানির সংজ্ঞা আধুনিকায়ন করার পাশাপাশি অপরাধীদের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হবে।

মেটা বা ফেসবুকের কাছ থেকে আশানুরূপ সাড়া না পাওয়ার বিষয়ে এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশগুলো আইনি সুরক্ষার মাধ্যমে মেটাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অ্যাকশন নিতে বাধ্য করেছে। কিন্তু আমাদের বর্তমান আইনে সেই কঠোর বিধান না থাকায় বিটিআরসি অনুরোধ পাঠালেও আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মগুলো তা সহজে আমলে নেয় না। তারা উল্টো আমাদের আইনের দুর্বলতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। নতুন আইনে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কনটেন্ট অপসারণের বাধ্যবাধকতা রাখা হচ্ছে। একইসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সরকারের ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্যান্য সংস্থা বা বিটিআরসিকে কনটেন্ট ব্লক ও হস্তান্তরের পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হবে।

ভার্চুয়াল জগতের অপরাধের পাশাপাশি বাস্তব জগতের অপরাধ দমনেও সরকার সমানভাবে কাজ করছে উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, ১৮৬৭ সালের ব্রিটিশ আমলের জুয়া প্রতিরোধ আইনকে আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। অনলাইন জুয়া, বেটিং ও এর সঙ্গে সম্পৃক্ত মাদক কারবার বন্ধে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন’ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, যা এই সেশনেই উত্থাপিত হতে পারে।

মাদক চোরাচালান ও মাদক কারবারিদের দমনে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন’ সংশোধনের কথাও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান আইনে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি নেই, যার কারণে অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত ড্রাগ ডিলারদের কাছে তারা প্রায়ই আক্রান্ত হন। নতুন খসড়া আইনে এই বাহিনীকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে প্রয়োজনীয় ল্যাবরেটরি সুবিধা, উন্নত প্রশিক্ষণ এবং নিজস্ব ডগ স্কোয়াড গঠনের আইনি সুরক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। খুব দ্রুতই এই আইনি কাঠামো শক্তিশালী করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং সামাজিক অনাচার প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে জানান মন্ত্রী।


আমার বার্তা/এমই