ধর্ষণের শিকার ৪১ হাজার ৫৫৫ নারী-শিশুর ডিএনএ প্রোফাইলিং সম্পন্ন

প্রকাশ : ১৫ জুন ২০২৬, ১৮:০০ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

সংসদ অধিবেশনে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন

নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুর দ্রুত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরি এবং ৭টি বিভাগীয় ডিএনএ স্ক্রিনিং ল্যাবরেটরির মাধ্যমে এ পর্যন্ত মোট ৪১ হাজার ৫৫৫টি নমুনার ডিএনএ প্রোফাইলিং সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন।

সোমবার (১৫ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য সেলিমা রহমানের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। এ দিন প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।

মন্ত্রী বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০২৬ সংসদের প্রথম অধিবেশনে পাস করা হয়। শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতনের অপরাধসমূহের বিচার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০২৬ অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

এছাড়াও অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং অপরাধের শিকার ব্যক্তির সম্মতি থাকুক বা না থাকুক, ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড (ডিএনএ) আইন, ২০১৪-এর বিধান অনুযায়ী ডিএনএ পরীক্ষা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ২০২৫ সালের সংশোধনীর মাধ্যমে ধর্ষণ মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া অধিকতর দ্রুত করা হয়েছে এবং অভিযোগ গঠনের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিচার সম্পন্নের বিধান সংযোজন করা হয়েছে।

নারী ও শিশুর সুরক্ষার নিমিত্ত বিভিন্ন আইন, বিধিমালা, নীতিমালা এবং কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়তা করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— জাতীয় নারী নীতি ২০১১, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০২৬; ডিএনএ আইন, ২০১৪ ও বিধিমালা ২০১৭; বাল্যবিবাহ নিরোধ বিধিমালা ২০১৮; এবং বাল্যবিবাহ নিরোধকল্পে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (২০১৮-২০৩০)।

মন্ত্রী বলেন, নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুকে সেবা প্রদানের জন্য সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পর্যায়ক্রমে ৩৭টি ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) স্থাপন করা হবে। বর্তমানে ১৪টি ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের মাধ্যমে নারী ও শিশুদের চিকিৎসা, আইনগত সহায়তা, পুলিশি সেবা, মনোসামাজিক কাউন্সেলিং, পুনর্বাসন ও সামাজিক পুনঃএকত্রীকরণ এবং আয়বর্ধনমূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এসব সেবার মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ৮২ হাজার ৬৭৮ জন সেবা পেয়েছেন।

তিনি আরও জানান, জেলা সদর হাসপাতাল এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যায়ক্রমে স্থাপিত ৯৫টি ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের মাধ্যমে ১ লাখ ৭০ হাজার ৫২৩ জন নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশু সেবা পেয়েছেন।

তাৎক্ষণিক ২৪ ঘণ্টা সেবা প্রদানকারী ন্যাশনাল হেল্পলাইন সেন্টার-১০৯ (টোল ফ্রি)-এর মাধ্যমে এ পর্যন্ত মোট ৮৮ লাখ ৪৬ হাজার ৯৪০ জন নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুকে বিভিন্ন ধরনের সেবা দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের মনোসামাজিক নিরাপত্তা প্রদানের জন্য ঢাকায় ন্যাশনাল ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টার এবং ৩৭টি রিজিওনাল ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টারের মাধ্যমে সেবা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে ন্যাশনাল ও ৮টি রিজিওনাল ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টার থেকে মোট ৩৮ হাজার ৬১ জন নারী ও শিশুকে মনোসামাজিক কাউন্সেলিং সেবা দেওয়া হয়েছে। সারভাইভারের পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে তথ্য, আইনগত পরামর্শ, পুলিশি ও মনোসামাজিক কাউন্সেলিং সেবা পেতে সহায়তা, উদ্ধার, বাল্যবিবাহ বন্ধসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য সেবা দেওয়া হয়।

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে জাতীয়, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। হেল্পলাইনের মাধ্যমে মোট ১৮ হাজার ৮২৪টি বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়েছে।

ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠী, নারী-পুরুষ বা জন্মস্থান নির্বিশেষে সকলের জন্য সমান সুযোগ ও অধিকার নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করার নিমিত্ত নতুন আইন প্রণয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এছাড়া পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০ রহিত করে পারিবারিক সহিংসতার শিকার ব্যক্তির সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, অপরাধ প্রতিরোধ ও দমন এবং বিচার প্রক্রিয়া সহজ করার লক্ষ্যে নতুন আইন প্রণয়নের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে বলে জানান মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন।


আমার বার্তা/এমই