কম্বোডিয়ার সাইবার স্ক্যাম সেন্টার থেকে ফিরলেন আরও ৭৮ বাংলাদেশি
প্রকাশ : ১৭ জুন ২০২৬, ১২:৩৫ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

কম্বোডিয়ার বিভিন্ন সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে উদ্ধার হওয়া আরও ৭৮ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। মঙ্গলবার (১৭ জুন) রাতে থাই এয়ারওয়েজের (টিজি-৩৩৯) একটি ফ্লাইটে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। এ নিয়ে গত চারদিনে সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে ২২১ বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন।
আগের তিনদিনের মতো মঙ্গলবার রাতে ফেরত আসা সবাইকে বিমানবন্দরে সিভিল অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটির সঙ্গে মিলে জরুরি সহায়তা ও বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য অর্থ সহায়তা দিয়েছে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম।
ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান জানান, সাইবার স্ক্যাম নিয়ে সবার সচেতনতা জরুরি। এটি মানবপাচারের ভয়াবহ এক ধরন। ভালো চাকরির কথা বলে বিদেশে নিয়ে সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ডে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক অনলাইন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে বাধ্য করা হতো। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন উন্নত দেশের নাগরিকদের লক্ষ্য করে পরিচালিত সাইবার স্ক্যাম কার্যক্রমে অংশ নিতে তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হতো। নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হতো।
শরিফুল হাসান জানান, কম্বোডিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের ফলে কয়েকটি স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে এসব বাংলাদেশিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তিন দিনে ২২১ জন বাংলাদেশির ফেরত আসা প্রমাণ করে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি এভাবে প্রতারণা ও নির্যাতনের শিকার। ফেরত আসা বেশ কয়েকজন মামলা করেছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পুরো ঘটনার যথাযথ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে ১৫ হাজার ৯২১ জন কর্মী চাকরি নিয়ে কম্বোডিয়ায় যান। ফেরত আসা বাংলাদেশিরা জানিয়েছেন, হাজার হাজার কর্মী চাকরি না পেয়ে সেখানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অথচ বিদেশে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সবাইকে কম্বোডিয়ায় পাঠানো হয়েছিল।
ফেরত আসা ভুক্তভোগীদের একজন জানান, তাকে দালাল বলেছিলেন কম্বোডিয়াতে সরাসরি কোম্পানিতে চাকরি হবে। সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে জনশক্তি ব্যুরোর ছাড়পত্র দিয়ে কম্বোডিয়ায় পাঠান। কিন্তু সেদেশের বিমানবন্দর থেকে তাকে একমাসের ভিজিট ভিসায় প্রবেশের অনুমতি দেন। এরপর আর ভিসা দেয়নি দালালরা।
তিনি আরও জানান, সেখানে কোনো কোম্পানিই খুঁজে পাননি তিনি। সেখানে থাকা রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধিরা টাকার বিনিময়ে তাকে স্ক্যাম কম্পাউন্ডে বিক্রি করে দেন।
আরেক ভুক্তভোগী জানান, তাদের শারীরিক নির্যাতন করে স্ক্যাম সেন্টারে কাজ করতে বাধ্য করা হতো। কাজ করতে না চাইলে টর্চার সেলে নিয়ে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হতো। কম্বোডিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সম্প্রতি স্ক্যাম সেন্টার বিরোধী অভিযান পরিচালনা করলে চাইনিজরা পালিয়ে যায়। এরপর সেখান থেকে তারা মুক্তি পান।
এর আগে গত ১২ জুন কম্বোডিয়া থেকে ৩৭ জন, ১৩ জুন ৫৪ আর ১৬ জুন ৭৮ জন শূন্য হাতে দেশে ফেরত আসেন।
এর আগে এ বছরের ২২ জানুয়ারি মিয়ানমারের একটি সাইবার স্ক্যাম সেন্টার থেকে আটজন এবং ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক দেশে ফেরেন। তাদেরও ভালো কাজের প্রলোভন দেখিয়ে থাইল্যান্ডের সীমান্ত এলাকা মায়েসট হয়ে জোরপূর্বক মিয়ানমারে প্রবেশ করানো হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে বিদেশের মাটিতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়। ভয়াবহ নির্যাতন করে তাদের দিয়ে নানান ধরনের সাইবার জালিয়াতির কাজ করানো হতো।
ব্র্যাক জানিয়েছে, কম্পিউটার, কল সেন্টার অপারেটরসহ বিভিন্ন পদে আকর্ষণীয় বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে নিয়োগের লক্ষ্যে বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে (ভুয়া ওয়েবসাইট, ইমেইল, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম ইত্যাদি) প্রচার চলে। এরপর তাদের সুকৌশলে স্ক্যাম সেন্টারের ভেতরে নিয়ে গিয়ে অস্ত্রের মুখে জোরপূর্বক জিম্মি করে স্ক্যামের কাজে নিয়োজিত করা হয়। কাজেই থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, লাওস, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ায় যাওয়ার বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
আমার বার্তা /জেএইচ
