কার্যালয় সংকটে ইসি, ব্যবস্থা নিতে গণপূর্ত ও স্থানীয় সরকার বিভাগে চিঠি
প্রকাশ : ২৫ জুন ২০২৬, ১৮:৩৪ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

মাঠপর্যায়ে শতাধিক প্রশাসনিক কার্যালয়ের সংকটে পড়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ সংকট উত্তরণে পৃথক তিনটি প্রকল্পের পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার বিভাগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি।
ইসির উপসচিব মুহাম্মদ মোস্তফা হাসান ইতোমধ্যে দুটি পৃথক চিঠি পাঠিয়েছেন।
গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিবকে লেখা চিঠিতে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক ও আইনগত দায়িত্ব হচ্ছে জাতীয় সংসদসহ বিভিন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা করা।
এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি সংসদীয় এলাকার সীমানা নির্ধারণ, ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও প্রণয়ন কার্যক্রম এবং জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবাসংক্রান্ত অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
ক্রমবর্ধমান এসব কার্যাবলি নির্বিঘ্ন ও যথাযথভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ের আঞ্চলিক ও জেলা নির্বাচন অফিসগুলোর অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
ইতোমধ্যে প্রতিটি অফিসের শূন্য পদে প্রয়োজনীয় সংখ্যক রাজস্ব ও আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগ ও পদায়ন করা হয়েছে। তবে এসব অফিসে রেকর্ড ও নির্বাচনী মালামাল সংরক্ষণের কক্ষ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসার উপযুক্ত স্থান না থাকায় দাপ্তরিক কার্যক্রম ও জনসেবা প্রদানে নানা প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে।
এ পরিস্থিতি উত্তরণের লক্ষ্যে অনির্মিত আঞ্চলিক এবং সিনিয়র জেলা/জেলা নির্বাচন অফিসগুলোর জন্য নতুন ভবন নির্মাণ এবং পূর্বে নির্মিত জেলা নির্বাচন অফিস ভবনগুলোর সম্প্রসারণের ব্যবস্থা করা অতীব জরুরি।
চিঠিতে আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস, ঢাকা এবং জেলা নির্বাচন অফিস, ঢাকা, মাদারীপুর ও গাজীপুরের জন্য নতুন অফিস ভবন নির্মাণে একটি প্রকল্প গ্রহণের লক্ষ্যে ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল (ডিপিপি) প্রণয়ন এবং ৫১টি জেলা নির্বাচন অফিসের বিদ্যমান অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় ভবন সম্প্রসারণে আরেকটি ডিপিপি প্রণয়নসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবকে লেখা চিঠিতে বলা হয়েছে, ক্রমবর্ধমান এসব কার্যাবলি নির্বিঘ্ন ও যথাযথভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ের নির্বাচন অফিসগুলোর অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
ইতোমধ্যে প্রতিটি উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসে দ্বিতীয় শ্রেণির একজন সহকারী উপজেলা/থানা নির্বাচন কর্মকর্তা পদায়ন করা হয়েছে। একজন প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাসহ রাজস্ব, প্রকল্প ও আউটসোর্সিং মিলিয়ে প্রায় ১০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী সেবা দানে নিয়োজিত রয়েছেন। কিন্তু অধিকাংশ নির্বাচন অফিসে রেকর্ড ও নির্বাচনী মালামাল সংরক্ষণের কক্ষ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসার উপযুক্ত স্থান না থাকায় দাপ্তরিক কার্যক্রম ও জনসেবা প্রদানে নানা প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে।
এ পরিস্থিতি উত্তরণের লক্ষ্যে মোট ৪৯টি উপজেলা নির্বাচন অফিসের ভবন নির্মাণ অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় স্থান (কমপক্ষে ৫ হাজার বর্গফুট) বরাদ্দের ব্যবস্থা করা জরুরি।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ৩০টি উপজেলায় নতুন ভবন নির্মাণের জন্য এখনো ভূমি বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। এসব এলাকায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে প্রয়োজনীয় ভূমি বরাদ্দের ব্যবস্থা গ্রহণ এবং যেসব উপজেলায় প্রয়োজনীয় ভূমি বরাদ্দ পাওয়া গেছে, সেসবসহ মোট ৪৯টি উপজেলায় নতুন অফিস ভবন নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণের লক্ষ্যে ডিপিপি প্রণয়নের উদ্যোগ নিতে হবে।
যেসব ক্ষেত্রে ভবন নির্মাণের জন্য স্থান পাওয়া যাবে না, সেসব ক্ষেত্রে উপজেলা পরিষদ ভবনে প্রয়োজনীয় স্থান বরাদ্দের ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনাও দিয়েছে ইসি।
বর্তমানে সারাদেশে ১০টি আঞ্চলিক কার্যালয় ও ৫১৪টি থানা/উপজেলা কার্যালয়ের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
আমার বার্তা/এমই
