কল-কারখানা স্থাপন করে উপকূলের বেকার সমস্যা সমাধান করা হবে: প্রধানমন্ত্রী
প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ১৫:৪২ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে সমুদ্র সংলগ্ন এলাকায় কল-কারখানা স্থাপন করে এই অঞ্চলের বেকার সমস্যা সমাধান করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (৯ আগস্ট) বাঁশখালীতে বন্যার্তদের সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এ আশ্বাস দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সমুদ্র হলো জনগণের বড় সম্পদ। এই সমুদ্র সংলগ্ন এলাকায় কল-কারখানা স্থাপন করে এই অঞ্চলের মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। এতে বেকার সমস্যার সমাধান হবে। এ সময় লবণ চাষিদের কল্যাণে শিগগিরই মূল্য নির্ধারণের ঘোষণাও দেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান আরও বলেন, এখানকার শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। কেউ যেন বিভ্রান্তি ছড়ানোর সুযোগ না পায়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের পরিকল্পনা কী হবে এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থা কীভাবে পরিচালিত হবে, সেই প্রস্তাবনা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে। সংসদে পরিকল্পনা উপস্থাপনের পর সে অনুযায়ী কার্যক্রম শুরু করা হবে।
তারেক রহমান বলেন, নতুন পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হবে দেশের স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, মিল-কারখানা ও বাসাবাড়িতে নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা। পাশাপাশি গাড়ি ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন খাতে প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়েও পরিকল্পনা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থার সঙ্গে দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান সরাসরি যুক্ত। মিল-কারখানা সঠিকভাবে পরিচালিত না হলে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব নয়। এ কারণে শিল্প উৎপাদন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে কার্যকর রাখা জরুরি।
সম্প্রতি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের পরিকল্পনা নিয়ে কিছু মানুষ বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কারও বিকল্প পরিকল্পনা থাকলে তা জনগণের সামনে উপস্থাপন করা উচিত; তবে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা বা জনগণের শান্তি নষ্ট করা উচিত নয়।
দেশের উন্নয়নের জন্য স্থিতিশীল পরিবেশের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, এখন দেশের মানুষের জন্য কাজ করার এবং দেশ গঠনের সময়। দীর্ঘদিন পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই। কাজ ও পরিশ্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে।
এর আগে, কক্সবাজারে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) কার্যক্রম পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সফরসূচি অনুযায়ী, দুপুর সোয়া ৩টায় হাটহাজারীর আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদরাসায় আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করবেন প্রধানমন্ত্রী। পৌনে ৪ টায় হাটহাজারী ডাকবাংলোয় যাত্রা বিরতি করবেন।
বিকেল ৫টায় হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন সহায়তা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় চট্টগ্রামের ‘রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউ’ হোটেল মিলনায়তনে সাংগঠনিক সভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর আগে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে গেলেও এবারই প্রথম মহেশখালী, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীতে সফর করছেন।
আমার বার্তা/এমই
