আক্রান্তের পর চিকিৎসার চেয়ে রোগ প্রতিরোধই মূল লক্ষ্য: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৬, ১২:৪৬ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

মানুষ অসুস্থ হওয়ার পর চিকিৎসার পেছনে দৌড়ানোর চেয়ে রোগ প্রতিরোধের মাধ্যমেই জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওতে সারা দেশব্যাপী ওরাল কলেরা টিকাদান ক্যাম্পেইনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনের পাশাপাশি একজন প্রতিবন্ধীকে টিকা দিয়ে দেশব্যাপী সবার মধ্যে এটি ছড়িয়ে দেয়ার আহ্বান করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।
প্রতিমন্ত্রী ড এম এ মুহিত বলেন, চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার দিকে জোর দিলে মানুষ যেমন সুস্থ থাকবে, তেমনি জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর বাড়তি রোগীর চাপ কমে আসবে।
বক্তব্যে স্বাস্থ্য খাতের রূপরেখা তুলে ধরে ড. এম এ মুহিত বলেন দেশের ইতিহাসে এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসাসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে দেশের প্রতিটি উপজেলায় ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে।
কলেরা ও ডায়রিয়াজনিত অসুস্থতা দূর করতে টিকাদানের গুরুত্ব তুলে ধরে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি একটি সহজে গ্রহণযোগ্য ওরাল (মুখে খাওয়ার) ভ্যাকসিন। শহর থেকে দূরবর্তী গ্রাম, দুর্গম চরাঞ্চল কিংবা পাহাড়ের প্রত্যন্ত জনপদে প্রতিটি মানুষের কাছে এই টিকা পৌঁছে দিতে হবে। এ জন্য সব সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে টিকাদানকে একটি কার্যকর 'সামাজিক আন্দোলনে' রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড মুহিত উল্লেখ করেন, শুধু টিকাই নয়, কলেরা ও ডায়রিয়ার মতো মারাত্মক পানিবাহিত রোগ থেকে সুরক্ষিত থাকতে ৩টি বিষয় কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
পান করা, রান্না এবং দৈনন্দিন গৃহস্থালির প্রতিটি কাজে শতভাগ বিশুদ্ধ ও নিরাপদ পানির ব্যবহার এবং সংরক্ষণ নিশ্চিত করা। বৈশ্বিক ‘ওয়াশ’ নির্দেশিকা অনুযায়ী নিয়মিত ও সঠিকভাবে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার চর্চা গড়ে তোলা। খোলা স্থানে মলত্যাগ বর্জন এবং সারা দেশে স্বাস্থ্যসম্মত সেনিটেশন নিশ্চিত করা।
দেশব্যাপী সফলভাবে পরিচালিত সাম্প্রতিক হামের টিকাদান কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, স্বাস্থ্যকর্মী ও সামাজিক সহযোগিতায় এই ওরাল কলেরা টিকাদান কর্মসূচিও শতভাগ সফল হবে।
