মক্কা চুক্তিকে হুমকি মনে করে না ইরান, প্রস্তাব পেলে বিবেচনা : রাষ্ট্রদূত

প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:১৬ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদি বলেছেন, আমরা মক্কা চুক্তিকে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ হিসেবে দেখি না। এটাকে আমরা কোনো হুমকি বলে মনে করি না এবং এ বিষয়ে আমরা সম্পূর্ণ নিশ্চিন্ত।

বুববার (২ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সাক্ষাতের পর মক্কা চুক্তি নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদি।

রাষ্ট্রদূত বলেন, আমরা মক্কা চুক্তিকে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ হিসেবে দেখি না বরং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতার একটি স্পষ্ট নিদর্শন হিসেবেই আমরা এই চুক্তিকে বিবেচনা করি। সৌদি আরবের সঙ্গে আমাদের কোনো বিরোধ বা সংঘাত নেই। তুরস্ক ও পাকিস্তান ইরানের অত্যন্ত ভালো বন্ধু। সৌদি আরবের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক রয়েছে এবং দেশটির সঙ্গে আমাদের ইতিবাচক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিদ্যমান। তাই, মক্কা শান্তি চুক্তি নিয়ে আমাদের কোনো উদ্বেগ নেই।

জলিল রহিমি জাহানাবাদি বলেন, বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে আমরা ভালোভাবে অবগত। আপনাদের সরকার অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে। তাই আপনাদের সরকারের নেওয়া কোনো সিদ্ধান্তই আমাদের জন্য উদ্বেগের বিষয় নয়। আপনারা জানেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় আমরা কেবল এই আরব দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকেই লক্ষ্যবস্তু করেছিলাম। আমরা কখনোই কোনো আরব দেশের সার্বভৌম ভূখণ্ড বা ভূমিতে আক্রমণ করিনি।

অনেকে বলছেন, মক্কা চুক্তিটি মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যেই গঠিত হয়েছে। এতে যোগ দেওয়া ইসলামী দেশগুলো কি পরোক্ষভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থই রক্ষা করছে না-এমন প্রশ্নের জবাবে ইরানের রাষ্ট্রদূত বলেন, না, বিষয়টি তা নয়। এমন এক সময়ে মক্কা চুক্তিটি গঠিত হচ্ছে যখন যুক্তরাষ্ট্র নিজের এবং মধ্যপ্রাচ্যে তাদের মিত্রদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে।

তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালির মতো বাণিজ্য পথগুলো পুনরায় সচল করার প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্র বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। আমার দৃষ্টিতে, মক্কা চুক্তি হলো যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পরাজয়েরই একটি সম্পূরক অংশ মাত্র। এই অঞ্চলের ইসলামী দেশগুলো এখন বুঝতে পেরেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল অস্ত্রভাণ্ডার তাদের কাঙ্ক্ষিত নিরাপত্তা দিতে সক্ষম নয়। তাই আমরা মক্কা চুক্তিকে ইরানের জন্য কোনো হুমকি বলে মনে করি না এবং এ বিষয়ে আমরা সম্পূর্ণ নিশ্চিন্ত।

ইরান কি মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত বলেন, আমরা এতে যোগ দেওয়ার জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধ বা প্রস্তাব জমা দিইনি। তবে, মক্কা চুক্তির সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পক্ষ থেকে যদি আমাদের কোনো আমন্ত্রণ বা প্রস্তাব দেওয়া হয়, আমরা তা বিবেচনা করব। প্রায় ১০ বছর আগে, ইরান মক্কা চুক্তির মতোই একটি উদ্যোগের প্রস্তাব দিয়েছিল। আমরা 'পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত মধ্যপ্রাচ্য'-এর পক্ষে কথা বলেছিলাম এবং প্রস্তাব দিয়েছিলাম যে মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশেরই পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত নয়। ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্র কি সেই প্রস্তাব সমর্থন করেছিল? না, তারা তা করেনি।

তিনি বলেন, আমাদের দ্বিতীয় প্রস্তাবটি ছিল মধ্যপ্রাচ্যের সব ইসলামি রাষ্ট্রের মধ্যে একটি 'যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি' স্বাক্ষরের বিষয়ে। তবে, তৎকালীন সময়ে আরব রাষ্ট্রগুলো ইরানের এই প্রস্তাব সমর্থন করেনি; কারণ তারা মনে করত যে তাদের নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনই যথেষ্ট।

এ সময় ইরানের রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলা‌দে‌শের জ্বালা‌নিবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালী নি‌য়ে পার হ‌তে কো‌নো সমস্যা নেই।