আসিফ মাহমুদের আসনের জন্য জামায়াত আমিরকে ফোন দিয়েছিলেন ড. ইউনূস: রাশেদ খাঁন

প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪২ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

ঢাকা-১০ আসনের আসন সমঝোতা না হওয়া এবং সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের নানা তথ্য প্রকাশ্যে এনেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) রাশেদ খাঁন।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা জানান রাশেদ খাঁন।

রাশেদ খাঁন লেখেন, ‘আসিফ মাহমুদ কোন দুর্নীতি করে নাই! শুধু জিগ্যেস করেন জামায়াতের আমির কেন তাকে ঢাকা-১০ আসন ছাড়ে নাই? নাহিদ ইসলাম এ বিষয়ে কারও কারও কাছে আক্ষেপ করে বলেছে, জামায়াতের আমির অনেক দরকষাকষির পরেও আসিফ মাহমুদের আসনটা ছাড়েনি!’

তিনি লেখেন, ‘নাহিদ ইসলামের ভাষায় জামায়াতের আমিরের মন্তব্য এমন ছিলো, আসিফ মাহমুদের দুর্নীতির অভিযোগ বা বিতর্কের দায় জামায়াত নিতে রাজি হয়নি। এমনকি আসিফ মাহমুদের আসনের জন্য ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস জামায়াতের আমিরকে কল করলে জামায়াতের আমির স্পষ্ট জানিয়ে দেন, প্রয়োজনে আরও ২-৩টা আসন বেশি ছাড়বো, কিন্তু আসিফ মাহমুদের বিষয়ে আপনি অনুরোধ করিয়েন না!’

‘আমি জামায়াতের সমালোচনা করলেও, জামায়াতে আমিরের এই অবস্থানের জন্য ধন্যবাদ জানাই। সাংবাদিক ভাইয়েরা প্রয়োজন এই বিষয়ে সন্দেহ লাগলে উপরিউক্ত সংশ্লিষ্টদের সাথে আলাপ তুলতে পারেন।’

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক এই সহকারী লেখেন, ‘আজকের সংবাদ সম্মেলনটা লক্ষ্য করেন, সিনিয়র কোন নেতা আসিফের পাশে নাই কেন? এর মূল কারণ হলো আসিফ মাহমুদের দুর্নীতির বিষয়টা এনসিপিতে ওপেন সিক্রেট! এনসিপির অধিকাংশ নেতাকর্মী কষ্টে জীবন অতিবাহিত করে, সেখানে আসিফ মাহমুদ মাত্র ১৮ মাসের উপদেষ্টা হয়ে আলাদিনের চেরাগ পেয়েছিলো!’

তিনি আরও লেখেন, ‘দুদকের কোন কর্মকর্তার শব্দের হেরফের হওয়ার কারণে আসিফ মাহমুদ দুর্নীতির অভিযোগ থেকে খালাস পেয়ে যায় না! সে অন্তত একজনকে বড় অঙ্কের অর্থ প্রদান করেছিলো, যেটা আমি নিজে জানি। এ বিষয়ে আমি একজন উপদেষ্টাকে জানালে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, বেতন থেকে তো কেউ এতো টাকা দিতে পারে না।’

‘আসিফ মাহমুদ তো ওমরাহ করে এসেছে, তার উচিত ছিলো অল্প বয়সের ভুলের জন্য দুঃখপ্রকাশ করা। আমি অন্তত তার এই ভুলকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখতাম। কিন্তু বিরোধীতার কারণে, বিরোধীদলের সবাই আসিফ মাহমুদের পক্ষে অবস্থান করলেও, আমার কাছে যতটুকু তথ্য আছে, তাতে আমি সবসময় বলে যাবো, আসিফ মাহমুদ ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির সাথে সম্পৃক্ত হয়েছিলো!’