পোশাক পরিবর্তনের চেয়ে মানসিকতার পরিবর্তন চায় সাধারণ মানুষ
প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯:০০ | অনলাইন সংস্করণ
নিত্য গোপাল তুতু:

পোষাক নয় আচরণের পরিবর্তন চায় সাধারণ মানুষ। নতুন করে আবারও পোষাক পরিবর্তন এর দাবি উঠেছে খোদ পুলিশের মধ্য থেকেই।
পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের পর বিশেষজ্ঞরা বলেন, পুলিশ সদস্যের নিজেদের কার্যকলাপ যদি পরিবর্তন না করা যায়, তবে পোশাক পরিবর্তন করে খুব বেশি কাজে আসবে না। শুধু সরকারের অর্থ ব্যয় হবে। কারণ আগেও অনেকবার পোশাক পরিবর্তন হয়েছে পুলিশের। কিন্তু পুলিশের কোনো পরিবর্তন হয়নি। গত বছর ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে এই পুলিশই গুলি চালায়। যে কারণে পোশাক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের মনোভাবেরও পরিবর্তন জরুরি।
জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক (অপরাধ বিভাগ) নাজমুল সাকিব আমার বার্তাকে বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তীতে পুলিশ তো ডিমোরালাইজড ছিল। পুলিশ সম্পর্কে মানুষের নেতিবাচক মানসিকতা ধারণা প্রতিষ্ঠিত ছিল। সেই জায়গা থেকে পুলিশের মনোবল উদ্ধার, স্বাভাবিক কর্মে ফেরাতে গৃহীত উদ্যোগগুলোর একটি ছিল পোশাক পরিবর্তন। সেটাকে আমরা এপ্রিসিয়েটও করেছিলাম।
কিন্তু পোশাক পরিবর্তনের বিষয়টি নাকি মতামত ছাড়াই করা হয়েছে। সত্যি হলে সেটা অবশ্যই উচিত ছিল। পোশাকের রঙ, কাপড়ের মান নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন৷ তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্তদের উচিত ছিল মতামত নিয়ে অন্ততঃ পাইলটিং করে কয়েকটি পোশাক ট্রাই করা। তিনি বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তীতে পুলিশই সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী আবার বড় অপরাধীও। আন্দোলন দমনে পুলিশকে তো ব্যবহার করা হয়েছে সেটাও তো সত্য। তারা তো কমান্ড ফলো করছে।
তবে যারা স্বপ্রণোদিত হয়ে, রাজনৈতিক মানসিকতায়, আন্দোলন নস্যাতের নামে মানবাধিকার লঙ্ঘন, বলপ্রয়োগ করেছেন তাদের সনাক্ত করে বিচারের আওতায় নিয়ে আসা উচিত।
তবে অনেকের চাকরি গেছে, সাসপেন্ড করা হয়েছে। সেটা কিসের ভিত্তিতে? বস্তুনিষ্ঠ কিনা সব আমলে নিয়ে খতিয়ে দেখা উচিত৷ পুলিশের মানসিকতা বদলাতে হলে পুলিশে চেইন অব কমান্ড ঠিক করতে হবে, রাজনৈতিক ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। পুলিশের কাছ থেকে সর্বোচ্চ সার্ভিস চাইলে তাকে সর্বোচ্চ ডিগনিটি, মোটিভেশান দিতে হবে। দায়িত্বশীল ও দেশপ্রেমিক পুলিশ কর্মকর্তা গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, পুলিশের পোশাক পরিবর্তন হলেই জনগণের বন্ধু বা সেবক হয়ে যায় না। পুলিশ সার্ভিস এসোসিয়েশন যখন চিঠি দিয়ে আপত্তি জানায় তখন সেটাও আমলে নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া উচিত বলেও মনে করেন তিনি। এদিকে পুলিশের পোষাক পরিবর্তন নিয়ে পুলিশের এআইজি (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসেন আমার বার্তাকে বলেন, পুলিশের পোষাক পরিবর্তন হলেও মানসিকতা পরিবর্তনে মূলত আবশ্যকতা রয়েছে। সেক্ষেত্রে মানুষের সেবা করার বিষয়টা নিয়ে আমরা বিভিন্ন ভাবে এগিয়ে যাচ্ছি। আশাকরি শীঘ্রই পুলিশকে মানুষ বন্ধু হিসেবে নিবে। তবে আসলে একটু সময়ের বিষয়।
এদিকে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, কেবল পোশাকে পরিবর্তন নয়, দরকার মানসিকতায় পরিবর্তন। না হলে কেবল অর্থের অপচয় হবে। তারা মনে করিয়ে দেন, বর্তমানেও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে কনস্টেবল পর্যন্ত সদস্যদের পোশাক প্রায় একই।
ঢাকার রাস্তায় দায়িত্ব পালন করা একাধিক পুলিশ সার্জেন্ট আমার বার্তাকে বলেন, পুলিশের নতুন পোশাকে রাতে ডিউটি করলে দূর থেকে এই ইউনিফরম চোখে পড়ে না। এই ইউনিফরমের ওপর আলো পড়লে ভিন্ন এক রঙ তৈরি হয়। কিন্তু আগের পোশাক অনেক দূর থেকেই দেখা যেত। দৃশ্যমান ছিল।
এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসি চত্বরে কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে এবিষয়ে কথা বলেই তারা বলে উঠেন, আসলে পোষাক কোন বিষণ্নত, মানসিক পরিবর্তনই বিষয়। পুলিশতো অন্যকোন দেশের জনগণ নয়। তারাতো আমাদেরই ভাই-বোন। তাছাড়া তারা এসমাজে বড় হয়েছেন এবং শিক্ষা নিয়েছেন বাহিনীতে। সেক্ষেত্রে ন্যায়-অন্যায় বিবেকের সামনে রেখেই তাদের কাজ করা উচিত বলে মনে করছি।
আমার বার্তা/নিত্য গোপাল তুতু/এমই
