তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিজয়ীদের অভিনন্দন হেফাজতের

প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮:২২ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটির আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমান এ অভিনন্দন জানান।

বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, দেশের জনগণের প্রত্যাশা ও গণরায়ের ভিত্তিতে ভূমিধস বিজয় অর্জন করায় জনাব তারেক রহমান ও বিএনপি জোটকে আন্তরিক মোবারকবাদ, অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।

হেফাজত নেতৃদ্বয় বলেন, রাষ্ট্রক্ষমতা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে দেওয়া এক মহান নেয়ামত। তিনি যাদের ওপর দেশ শাসনের দায়িত্ব অর্পণ করেন, তাদের ওপরই জনগণের হক আদায়ের গুরুদায়িত্ব ন্যস্ত করেন। রাষ্ট্রক্ষমতা কোনো সম্মান লাভের উপায় নয়; বরং এটি এক কঠিন আমানত। এই আমানতের জিম্মাদারি সঠিকভাবে পালন এবং ন্যায়-ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা প্রত্যেক শাসকের প্রধান কর্তব্য।

তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার সততা, দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনায় অগ্রসর হবে এবং দেশের সার্বিক উন্নয়ন, ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে। দেশের মসজিদ-মাদ্রাসা, আলেম-ওলামা ও জনগণের ধর্মীয় ও মানবাধিকার সংরক্ষণ, আইনের শাসন নিশ্চিতকরণ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মুসলিম শিক্ষা, সভ্যতা ও তাহজীব-তামাদ্দুন সংরক্ষণে দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা। দেশের সার্বভৌমত্ব ও ইসলামী মূল্যবোধ রক্ষায় সাহসী ভূমিকা পালনেরও প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। পাশাপাশি সব রাজনৈতিক মত ও পথের প্রতি সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রেখে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করার আহ্বান জানানো হয়। ফ্যাসিবাদী যে কোনো পন্থার শিকড় মূলোৎপাটনে সাহসী ভূমিকা পালনের কথাও উল্লেখ করা হয়। ক্ষমতাসীনদের নিজেদেরকে শাসক নয়, জনগণের সেবক হিসেবে ভাবার আহ্বান জানান হেফাজত নেতারা।

বিবৃতিতে বলা হয়, দেশে নির্বাচন-পরবর্তী সন্ত্রাস, সহিংসতা ও নৈরাজ্য কোনো জাতির কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না; বরং সরকার, সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য তা ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হতে পারে। নতুন সরকারের প্রতি সন্ত্রাস ও সহিংসতা দমনে কঠোর কিন্তু ন্যায়ভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও মানবিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণমূলক কর্মপন্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়। নৈতিক মূল্যবোধভিত্তিক কর্মসূচি জোরদার করে তরুণ সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করারও আহ্বান জানানো হয়।

দেশের নাগরিক সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, উস্কানিমূলক স্ট্যাটাস, প্রতিপক্ষকে আক্রমণ, মিথ্যা তথ্য প্রচার ও সহিংস কার্যকলাপ থেকে বিরত থেকে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। বড়দের প্রতি শ্রদ্ধা ও ছোটদের প্রতি মমত্ববোধ বজায় রাখারও আহ্বান জানানো হয়।

তাঁরা বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়; এটি সব নাগরিকের সম্মিলিত দায়িত্ব। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাই একটি নিরাপদ ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারে।

হেফাজত নেতারা আরও বলেন, দেশ পরিচালনায় ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। দুর্নীতি, অনিয়ম ও অবিচার সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। জনগণের জান-মাল, ইজ্জত ও অধিকার রক্ষা করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। বিশেষ করে দরিদ্র, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের প্রতি সহানুভূতি ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয়।

সবশেষে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে নতুন সরকার একটি শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হবে। আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করে তাঁরা বলেন, নতুন নেতৃত্বকে সত্য ও ন্যায়ের পথে অটল রেখে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের তাওফিক এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করার শক্তি দান করুন।


আমার বার্তা/এমই