তেল বরাদ্দে অনিয়ম, যমুনার এজিএম (সেলস) সাময়িক বরখাস্ত
প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:৩২ | অনলাইন সংস্করণ
মোস্তফা সারোয়ার:

রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড ফতুল্লা ডিপো হতে অতিরিক্ত তেল সরবরাহের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির এজিএম (সেলস) সৈয়দ সফিকুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে৷ যদিও তাকে রক্ষা করতে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো: আমির মাসুদের বিরুদ্ধে ছলচাতুরীর অভিযোগ উঠেছে, কিন্তু মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে অবশেষে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করতে বাধ্য হয়েছেন । দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে এক অফিস আদেশে সফিকুর রহমানকে রক্ষা করতে চেয়েছিলেন এমডি, এমনকি তিনি অনেকটা সফলও হয়েছিলেন৷ তবে বিষয়টি বিপিসির নজরে আসলে দুই দিনের মধ্যে আরেকটি অফিস আদেশে তাকে সাময়িক বরখাস্ত বাধ্য হয় আমির মাসুদ৷ দুটোই চিঠিই আমার বার্তার দপ্তরে এসেছে ।
৫ এপ্রিল ২০২৬ এমডি প্রকৌশলী আমির মাসুদের স্বাক্ষরিত প্রথম চিঠির অফিস আদেশে বলা হয়েছে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, নারায়নগঞ্জ সদর, এস এম ফয়েজ উদ্দিন এবং পরিচালক ( উপসচিব) খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো দ্বয়ের ০৪/০৪/২০২৬ তারিখের স্বাক্ষরিত বিশেষ প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে সচিব, বিপিসি মহোদয়ের ০৫/০৪/২০২৬ এর বিশেষ নির্দেশনা মোতাবেক যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের এজিএম ( সেলস) সৈয়দ সফিকুর রহমানকে তার উপর অর্পিত এজিএম (সেলস) ঢাকা বিভাগীয় অফিস এর দায়িত্ব হতে অব্যাহতি প্রদান করা হলো৷ এদিকে খোাজ নিয়ে জানা গেছে বিপিসির নির্দেশনা ছিল তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার, কিন্তু সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে আমির মাসুদ তাকে অব্যাহতি দিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে। তবে বিষয়টি বিপিসি এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নজরে আসলে ফের আরেকটি অফিস আদেশে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় ।
এদিকে ৭ এপ্রিল প্রকৌশলী আমির মাসুদ স্বাক্ষরিত আরেকটি অফিস আদেশে বলা হয়, মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল পরিচালক ( উপসচিব) খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো এবং নারায়নগঞ্জ সদর নির্বাহী অফিসার সাক্ষরিত ০৪/০৪/২০২৬ তারিখের একটি বিশেষ প্রতিবেদনে পাওয়া গেছে, যমুনা ডিপো পরিদর্শনকালে রেজিস্ট্রার, বরাদ্দ পত্র ও চালান যাচাই বাছাইয়ে প্রতিময়মান হয় যে, এজিএম ( সেলস) সফিকুর রহমানের হোয়াটসএ্যাপ বার্তা এবং বিভিন্ন ফোনকলের মাধ্যমে বিভিন্ন ফিলিং ষ্টেশনে অতিরিক্ত তেল সরবরাহ করা হয়েছে৷ এই আদেশে কয়েকটি সিএনজি স্টেশনের নামও উল্লেখ করেছে। আগামী দশ কার্যদিবসের মধ্যে এজিএম সেলসকে শোকজের জবাব দিতে বলা হয়েছে, পাশাপাশি সেই আদেশে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার কথাও বলা হয়েছে৷ বিষয়টি নিয়ে আমির মাসুদের সাথে যোগাযোগ করতে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি৷ এদিকে সাপ্তা খানিক আগে অবৈধ ভাবে তেল মজুদের অভিযোগে মোংলা ডিপোর ইনচার্জ আল-আমীন খানকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে ।
প্রতিষ্ঠানটির জিএম মার্কেটিং মাসুদুল ইসলামের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ সহোযোগিতায় যমুনা অয়েলে তেল নয় ছয়ের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। কিন্তু বরখাস্ত হয় চুনোপুটিরা, বহাল তবিয়তে থেকে যায় মাসুদুল ইসলামের মতো ক্ষমতাধর কর্মকর্তারা৷
আমার বার্তা/এমই
