১১ বলে সুরিয়াভানশির ফিফটির বিশ্বরেকর্ড, ৬ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস
প্রকাশ : ২১ জুন ২০২৬, ১২:২২ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

জায়গা বানিয়ে খেলার চেষ্টায় ঠিকভাবে ব্যাটে-বলে করতে পারলেন না বৈভব সুরিয়াভানশি। ধরা পড়লেন মিড অফ ফিল্ডারের হাতে। চোখেমুখে আর অভিব্যক্তিতে হতাশা স্পষ্ট। প্রতিপক্ষ অধিনায়ক নিরোশান ডিকওয়েলা ছুটে এসে পিঠ চাপড়ে সান্ত্বনা দেন। উল্লাসে মেতে ওঠা বোলারের পাশ দিয়ে বিরস বদনে ড্রেসিং রুমের পথে হাঁটা দেন তিনি। ৬ রানের জন্য হলো না সেঞ্চুরি।
আক্ষেপটি সেই সেঞ্চুরি না হওয়াতেই। নইলে ততক্ষণে সুরিয়াভানশি যা করেছেন, তাতে লঙ্কান বোলারদের নাকের জল চোখের জল এক হয়ে যাওয়ার কথা। মাত্র ১১ বলে ফিফটি করে তিনি ভেঙে দিয়েছেন লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে দ্রুততম ফিফটির ২১ বছর পুরোনো রেকর্ড। আউট হওয়ার সময় তার নামের পাশে ছিল ২৯ বলে ৯৪ রান।
শ্রীলঙ্কায় ত্রিদেশীয় ‘এ’ দলের টুর্নামেন্টের ফাইনালে রোববার এই ইনিংস খেলেন তিনি।
ফাইনালের আগ পর্যন্ত এই টুর্নামেন্টে তেমন বড় কিছু করতে পারেননি সুরিয়াভানশি। আফগানিস্তান ‘এ’ দলের বিপক্ষে এক ম্যাচে ২২ বলে ৪৪ ও আরেক ম্যাচে ২৮ বলে ৩৮ রান করেন। শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের বিপক্ষে দুই ইনিংসেই ব্যর্থ ছিলেন তিনি। আইপিএলে আলোড়ন তোলা পারফরম্যান্সের পর তার পারফরম্যান্স কিছুটা ম্লান হয়ে গিয়েছিল।
এই আসরে বরং বেশি আলোচনায় ছিলেন তিনি বিতর্কের কারণে। আগের ম্যাচে সুপার ওভারের পর মাঠে উত্তেজনার ঘটনায় প্রতিপক্ষের এক ক্রিকেটারের দিকে তেড়ে যাওয়ার পর তাকে শাস্তিও পেতে হয়, যদিও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
সব মিলিয়ে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো কিছুটা নেতিবাচক আবহ তৈরি হয়েছিল তার চারপাশে। কিন্তু ফাইনালে ব্যাট হাতে সেই সবকিছুকে ছাপিয়ে যান তিনি।
ডাম্বুলায় ইনিংসের শুরু থেকেই আগ্রাসী ছিলেন সুরিয়াভানশি। প্রথম ওভারে দুই বল খেলে দুটিতেই চার মেরে শুরু করেন। তৃতীয় ওভারে শিরাজকে আক্রমণ করে তিন ছক্কা ও দুই চারে তোলেন ২৬ রান। তিন ওভারেই অর্ধশত রান ছুঁয়ে ফেলে ভারত ‘এ’ দল।
পরের ওভারে চার মেরে ও টানা দুটি ছক্কায় পূর্ণ করেন রেকর্ড গড়া ফিফটি।
লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে দ্রুততম ফিফটির আগের রেকর্ড ছিল ১২ বলে, যা ২০০৫ সালে শ্রীলঙ্কার কৌশাল্য উইরারাত্নে করেছিলেন।
ফিফটির পরও থামেননি সুরিয়াভানশি। একের পর এক বাউন্ডারি-ছক্কায় ইনিংস এগিয়ে নেন। নবম ওভারে লঙ্কান অধিনায়ক সাহান আরাচ্চিগের বলে এক্সট্রা কাভার দিয়ে দৃষ্টিনন্দন ছক্কাও মারেন তিনি। তবে ওই ওভারেই তার ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে।
তিনি আউট হওয়ার সময় ভারতের রান ছিল ৮.৫ ওভারে ১৩২।
গত এক মাসে চারবারের মতো অল্পের জন্য সেঞ্চুরি মিস করলেন তিনি। আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে শেষ চার ম্যাচের মধ্যে তিনটিতে ৩৮ বলে ৯৩, ২৯ বলে ৯৭ ও ৪৭ বলে ৯৬ রানের ইনিংস খেলেছিলেন।
সামনেই ইংল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড সফরে জাতীয় দলের হয়ে তাকে দেখা যেতে পারে।
আমার বার্তা /জেএইচ
