কলম্বিয়ার সঙ্গে ড্র করে নকআউটে ক্রোয়েশিয়াকে পেল পর্তুগাল

প্রকাশ : ২৮ জুন ২০২৬, ১০:১১ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

পুরো ম্যাচজুড়ে আক্রমণে আধিপত্য ছিল কলম্বিয়ার। একের পর এক সুযোগ তৈরি করেও জালের দেখা পায়নি দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। অন্যদিকে পর্তুগালও কয়েকটি ভালো সুযোগ হাতছাড়া করে। দুই গোলরক্ষক কামিলো ভার্গাস ও দিয়োগো কস্তার দুর্দান্ত নৈপুণ্যে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের ‘কে’ গ্রুপের লড়াইটি শেষ হয়েছে ০-০ গোলশূন্য সমতায়।

তাতে ৩ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে কলম্বিয়া। রাউন্ড অব ৩২-এর লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ ঘানা। তবে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হচ্ছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালকে। ৩ ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে ‘কে’ গ্রুপের রানার্সআপ হওয়ায় তারা প্রতিপক্ষ হিসেবে পাচ্ছে ‘এল’ গ্রুপের রানার্সআপ ক্রোয়েশিয়াকে।

এর আগে মায়ামিতে রোববার (২৮ জুন) অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে কলম্বিয়া। প্রথম মিনিটেই লুইস দিয়াসের শট প্রতিহত হওয়ার পর ফিরতি বলে জন কর্দোবার হেড অল্পের জন্য ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়।

শুরুর ধাক্কা সামলে ধীরে ধীরে বলের নিয়ন্ত্রণ নেয় পর্তুগাল। তবে রবার্তো মার্তিনেজের দলের আক্রমণগুলো বেশিরভাগ সময়ই আটকে যায় কলম্বিয়ার শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণে। ২৪ মিনিটে রোনালদোর সরাসরি ফ্রি-কিক অনায়াসেই ধরে ফেলেন গোলরক্ষক কামিলো ভার্গাস।

প্রথমার্ধে সবচেয়ে পরিষ্কার সুযোগগুলো তৈরি করে কলম্বিয়াই। ১৭ মিনিটে কর্দোবার শট প্রতিহত হওয়ার পর ফিরতি বলে লুইস দিয়াসের প্রচেষ্টাও রক্ষণে আটকে যায়। ২২ মিনিটে নিশ্চিত গোল থেকে পর্তুগালকে বাঁচায় গোললাইন ক্লিয়ারেন্স। পরে পেনাল্টির আবেদন করলেও ভিডিও সহকারী রেফারি (ভিএআর) তা নাকচ করে দেন।

শেষদিকে কিছুটা ছন্দে ফেরে পর্তুগাল। ৩৯ মিনিটে কলম্বিয়ার এক ডিফেন্ডারের ভুলে বল পেয়ে কাছ থেকে জোরালো শট নেন ব্রুনো ফার্নান্দেস। তবে দুর্দান্ত প্রতিক্রিয়ায় দলকে রক্ষা করেন ভার্গাস। ফিরতি বলে রোনালদোর বাইসাইকেল কিকের চেষ্টাও ব্যর্থ হয়। ৪২ মিনিটে জোয়াও ফেলিক্সও ভালো সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি।

যোগ করা সময়ে আবারও গোলের খুব কাছে পৌঁছে যায় কলম্বিয়া। বক্সের বাইরে থেকে হেমস রদ্রিগেসের নিচু শট দুর্দান্ত সেভে ফিরিয়ে দেন পর্তুগালের গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তা। ফলে প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য সমতায়।

বিরতির পরও ম্যাচের চিত্র খুব একটা বদলায়নি। ৫৪ মিনিটে জেফারসন লের্মার দূরপাল্লার শক্তিশালী শট মুষ্টিবদ্ধ হাতে প্রতিহত করেন কস্তা। ৬০ মিনিটে রোনালদো অফসাইডের ফাঁদে পড়েন, আর ৬২ মিনিটে রিচার্ড রিওসের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

৬৫ মিনিটে বদলি লুইস সুয়ারেসের শট থেকে কর্নার আদায় করে কলম্বিয়া। এরপর জন আরিয়াস, কেভিন পুয়ের্তা ও হেমস রদ্রিগেসকে ঘিরে একের পর এক আক্রমণে পর্তুগিজ রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করে তারা। অন্যদিকে ৭৭ মিনিটে ডিওগো দালোটের দূরপাল্লার শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

ম্যাচের সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্ত আসে ৮৮ মিনিটে। পরপর কয়েকটি আক্রমণে কলম্বিয়া গোলের খুব কাছে পৌঁছে যায়। প্রথমে রুবেন দিয়াস গোললাইন থেকে বল ক্লিয়ার করেন, এরপর কস্তা আরেকটি নিশ্চিত সুযোগ রুখে দেন। কর্নার থেকে দাভিনসন সানচেসের হেড জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে গোল বাতিল হয়, যা ভিএআর পর্যালোচনার পরও বহাল থাকে।

যোগ করা সময়েও দুই দল জয়ের সুযোগ পেয়েছিল। রাফায়েল লেয়াওয়ের শট অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। অন্যদিকে শেষ মুহূর্তে কলম্বিয়ার আরেকটি সম্ভাবনাময় আক্রমণ দ্রুত বেরিয়ে এসে নস্যাৎ করেন কস্তা।

পরিসংখ্যানেও ছিল কলম্বিয়ার স্পষ্ট আধিপত্য। তারা ম্যাচে ২৪টি শট নিয়ে ৬টি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়। বিপরীতে পর্তুগালের ১৩টি শটের মধ্যে লক্ষ্যে ছিল মাত্র দুটি। তবে দুই গোলরক্ষকের দৃঢ়তা, রক্ষণভাগের গুরুত্বপূর্ণ হস্তক্ষেপ এবং সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হওয়ায় শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় দুই দলকে।


আমার বার্তা /জেএইচ